banglanewspaper

গুলশান হামলার মামলার রায়ের সময় আদালতে থাকবেন দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরা। তিন বছর আগের ওই হামলায় যেসব দেশের নাগরিকরা নিহত হয়েছিলেন তাদের দেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারা রায় শুনতে আসবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আজ বুধবার দুপুরে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে গুলশান হামলার মামলার রায় হবে। এই রায়কে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় কড়া নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় ১৭ বিদেশি নিহত হন। তার মধ্যে ৯ জন ইতালীয়, সাতজন জাপানি ও একজন ভারতীয়। জাপানের ওই সাত নাগরিক ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পে কাজ করছিলেন।

২০১৬ সালের ১ জুলাই চালানো ওই হামলার ঘটনা বড় শিরোনাম হয়ে উঠেছিল আন্তর্জাতিক সব সংবাদমাধ্যমে। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিপজ্জনক বিস্তারের মাত্রা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল ওই হামলার মাধ্যমে।

এই মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নব্য জেএমবির জঙ্গিদের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে ‘অস্থিতিশীল করা’ এবং বাংলাদেশকে একটি ‘জঙ্গি রাষ্ট্র’ বানানো।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘বিদেশি নাগরিকদের হত্যা করে নৃশংসতার প্রকাশ ঘটনানোর পাশাপাশি জঙ্গিরা এর মাধ্যমে দেশি- বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করতে চেয়েছিল।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির জানান, জাপানসহ কয়েকটি দেশের দূতাবাসের প্রতিনিধি রায় দেখতে এজলাসে উপস্থিত থাকবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের অর্থায়নে পরিচালিত ন্যাশনাল সেন্টার ফর স্টেট কোর্টের প্রতিনিধি হিসেবে আবু ওবায়দুর রহমান টগর রায় পর্যবেক্ষণে এজলাসে থাকবেন বলে জানিয়েছেন। 

ঢাকা মহানগর অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার জাফর হোসেন বলেন, যে আদালতে রায় হবে, সেখানে দিনের প্রথমভাগে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক বসেন এবং দ্বিতীয় ভাগে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক বসেন। দুই বিচারকই সিদ্ধান্ত নেবেন, কোন আদালত প্রথমে বসবে।

আদালতের কার্যক্রম দুপুর ১২টার দিকে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী গোলাম ছারোয়ার খান জাকি। বিচারক মো. মজিবুর রহমান আসন নেওয়ার পর ঘোষণা করা হবে রায়।