banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিনিধি: সম্প্রতি বেসরকারি দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানাধীন পত্রিকায় ‘বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিং’ করা হয়েছে। এই র‌্যাংকিং নিয়ে নানা মহলে উঠেছে প্রশ্ন। ২৫ মে করা এই র‌্যাংকিং ‘সার্ভের’ উপর নির্ভর করে করা হয়েছিল।

বাংলা ট্রিবিউনের সার্ভে যাদের দিয়ে করা হয়েছে, তাদের স্যাম্পলই (নমুনা) ছিল বিতর্কিত। স্যাম্পল বিতর্কের কারণে স্বাভাবিক ভাবে কাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে সেটা এই র‌্যাংকিংয়ে দেওয়া হয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউল্যাবের মালিকানাধীন বাংলা ট্রিবিউন ও সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানাধীন দৈনিক অধিকার একটি র‌্যাংকিং করে। এই র‌্যাংকিং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী হয়নি বলে মনে করেন অনেক শিক্ষাবিদ।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কীভাবে আন্তর্জাতিক মানের র‌্যাংকিং ও রেটিং করা হয় সেটা নিয়ে একটি ওয়ার্কশপের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। ‘কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিংস’ শীর্ষক এই ওয়ার্কশপ মঙ্গলবার বুয়েটে অনুষ্ঠিত হবে।

​​​​​​ওয়ার্কশটে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান। স্পেশাল অতিথি থাকবেন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী। এছাড়াও বুয়েটের উপাচার্য প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম উপস্থিত থাকবেন। পরিচালনা করবে বুয়েটের আইকিউএসি, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি আইকিউএসি ও সিঙ্গাপুরের আইকিউএসি র‌্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের আশ্বিস ফানাল্ডেস।

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মুশফিক মান্নান চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে যে গুটিকয়েক সংস্থা সারা বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকা প্রণয়ন করে থাকে, কিউএস বা কোয়াকোয়ারেলি সাইমন্ডস লিমিটেডের র‌্যাংকিং বিশ্বাসযোগ্যতায় উপরে। এটা আন্তর্জাতিক মানের এবং বিজ্ঞান সম্মত। একাডেমিক রেপুটেশন, এমপ্লয়ার রেপুটেশন, টিচার-স্টুডেন্ট রেশিও, সাইটেশন পার ফ্যাকাল্টি ও ইন্টারন্যাশনাল রিভিউ এই পাঁচটি নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে এই কিউএস র‌্যাংকিং তৈরি করা হয়।’

‘কোন মিথ্যা ইভালুয়েশনের (মূল্যায়ন) মাধ্যমে তারা র‌্যাংকিং করে না বা সার্ভে বেইজ করে না। সোজা কথায়, একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ডাটা; সেটার ভিত্তিতে তারা ইভালুয়েশন করে থাকে।’

মুশফিক মান্নান চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি রকম গবেষণা করে থাকে; এসব বিষয়ে যদি র‌্যাংকিং করা হয় তাহলে অনেক বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শক্ত অবস্থানে থাকবে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং অনেকাংশে নির্ভর করে ভালো শিক্ষকের উপর। সেখানে শিক্ষকেরও টিচিং বা কর্মদক্ষতা প্রমাণ করতে হয়। কিউএস র‌্যাংকিং এসব অনেক ক্যাটাগরিতে অনুসরণ করে ইভালুয়েশন করে থাকে।’

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবকদের সহায়তা করে বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিং। কিন্তু সেই র‌্যাংকিং যদি  আন্তর্জাতিক মান বজায় না রেখে হয়ে মনগড়া হয় তাহলে সেটা অবশ্যই বিতর্কের সৃষ্টি করে। এতে হুমকিতে পড়ে শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন।

দেখা যাচ্ছে, অনেক ভালো বিশ্ববিদ্যালয়কে র‌্যাংকিংয়ে অন্তভুক্ত করা হচ্ছে না। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজস্ব পত্রিকায় নিজেদের মত র‌্যাংকিং করছে। এটা বন্ধ করা উচিত। সঙে আন্তর্জাতিক মানের র‌্যাংকিংয়ের তাগিদ তাদের।