banglanewspaper

মো. সাইফুল ইসলাম পলাশ, কুবি প্রতিনিধি: আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম সমাবর্তন। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ১৩ বছরেও সমাবর্তন হয়নি। গত বছরের অক্টোবরে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক শিক্ষার্থীদের সাথে এক মত বিনিময় সভায় বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী এ বছর (২০১৯) ফেব্রুয়ারি কিংবা শেষ নাগাদ ১ম সমাবর্তনের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তা এখন নিছক মরীচিকায় পরিণত হয়েছে।

সমাবর্তন বলতে আমরা সাধারণভাবে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি বলে বুঝে থাকি। আর যার জন্য প্রয়োজনও জমকালো আয়োজনের। কিন্তু সমাবর্তন বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক অবস্থা এবং প্রশাসনের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলে জানা যায় চলতি বছরও হচ্ছেনা কুবির ১ম সমাবর্তন। এ বছর সমাবর্তন না করতে পারলেও আগামী বছরের জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে অনুষ্ঠিত হবে বলে ফের আশার বাণী শোনালেন রেজিস্ট্রার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ১ম সমাবর্তন এ বছরের (২০১৯) নভেম্বরে। যার জন্য তাদের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে গত বছর থেকেই। রেজিস্ট্রেশনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে ৮ মাস (মার্চ) আগ থেকে। এমনকি জবি’র ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটে (রাজস্ব) সমাবর্তনের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩.৫ কোটি টাকা। সেখানে ‘সমাবর্ত হবে’ এমন ঘোষণা দিয়ে প্রায় ঘুমিয়েই আছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন।

জানা যায়, গত ২৪ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৪২ কোটি ১৭ লাখ টাকার বাজেট পাশ হলেও সেখানে সমাবর্তনের জন্য কোন অর্থ ব্যয়ের খাতের উল্লেখ করা হয়নি। যেখানে অর্থ ব্যাতিত সমাবর্তন একেবারেই অসম্ভব। এমনকি একটি নামে মাত্র কমিটি গঠন ব্যাতিত উপাচার্যের প্রতিশ্রুতির প্রায় ১ বছর অতিবাহিত হলেও সমাবর্তন নিয়ে এখনো কোন প্রস্তুতি সভা, সমাবর্তন বক্তা নির্বাচন, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া, ভেন্যু নির্বাচনসহ দৃশ্যমান কোন কার্যক্রমই করতে দেখা যায় নি। যা থেকে এ বছর কোনভাবেই সমাবর্তন করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।

কোন আশ্বাসের বাস্তবায়ন না হওয়ায় পূর্বেও বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী সমালোচিত হয়েছেন বহুবার। এখন সমাবর্তনের আশ্বাস নিয়েও ক্ষোভ বিরাজ করছে শিক্ষার্থীদের মনে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৫ জন উপাচার্য অতিবাহিত হলেও কেউই সমাবর্তন করে যেতে পারেনি। এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা বহুবার স্মারকলীপি, আন্দোলন এবং বার বার দাবি জানিয়ে আসলেও তাতে কেউ কর্ণপাত করেনি। তবে কী বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরীর বেলায়ও একই হবে?

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গত বছর উচার্যের আশ্বাসে আমরা খুব আশাবাদি হয়েছিলাম যে, এ বছর আমরা সমাবর্তন পাব। কিন্তু প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং উদাসিনতা দেখে অনায়াসেই বলা যায় কুবিয়ানদের জন্য সমাবর্তন এবছরও নেই। সমাবর্তনের প্রস্তুতির জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বড় বড় অভিজ্ঞ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ন্যূনতম ১ বছর আগে থেকে কার্যক্রম শুরু করে। সেখানে আমাদের সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কথার ফুলঝুড়ি আর চাপাবাজিতেই সিমাবদ্ধ।’ এ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাপাবাজির জন্যই কিছু হবেনা বলেও তারা মন্তব্য করেন।

এ নিয়ে সমাবর্তন আয়োজক কমিটির আহবায়ক ড. এ. কে. এম রায়হান উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে সমাবর্তনের অনুমতির জন্য মহামান্য আচার্য বরাবর সাক্ষাতের সময় চেয়ে আবেদন করেছি এবং রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার কাজও দ্রুত শুরু করবো। এ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সদস্য সচিবের কাছে জানতে পারবেন।’

যোগাযোগ করলে সমাবর্তন আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘একাডেমীক কমিটির ৫২ তম সভায় ১২ সদস্যে একটি কমিটি করে দেওয়া হয়। আমরা ইতোমধ্যে উপকমিটি গুলো করার বিষয়ে কাজ করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ সমাবর্তনের আওতাভুক্ত। আমরা এ কাজগুলোও দ্রুত সময়ের মধ্যে কারার তাগিদ দিচ্ছি।’

সমাবর্তন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. আবু তাহের আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে সমাবর্তন নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে এবং খুব দ্রুতই মাহামান্য আচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবো। সমাবর্তনের বাজেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অভাবে রাখা হয়না। রেজিস্ট্রেশন ফি, স্পন্সর, ইউজিসির অনুদান এবং অন্যান্য মাধ্যম থেকে তা ব্যবস্থা করা হয়।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরীর সাথে কথা বলার জন্য মোবাইল ফোনে এবং কার্যালয়ে গিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।