banglanewspaper

ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধের জের ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ২৪ জন। শুক্রবার দুপুরে বকশীবাজারে ডা. ফজলে রাব্বী হলে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হল ও আশেপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ছয়জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন। বাকিদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চকবাজার থানার ওসি (তদন্ত) কবির হোসেন হাওলাদার বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে হল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকালে ক্রিকেট খেলা নিয়ে ডা. ফজলে রাব্বী হলের শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপের বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে দুপুরের দিকে দু'পক্ষ লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ২৪ জন আহত হন। তাদের মধ্যে ১৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন- সাইফুল, সুমন, রুমান শাহরিয়ার, নিশাত, আবদুর রউফ, নিয়ামুল, প্রকৃতি, তানজিন, তন্ময়, প্রান্ত, অপিন, ফাহিম, অর্পণ, সৌরভ আক্কাস, শাহরিয়ার, নিশাত, প্রত্যয়, লেমন ও উল্লাস। তাদের সবার বয়স ২০-২৩ বছরের মধ্যে।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া চিকিৎসকদের উদ্বৃত করে বলেন, আহতদের বেশিরভাগের আঘাত তেমন গুরুতর নয়। তারা দ্রুত সেরে উঠবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্রথম বর্ষের ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে নিরীহ শিক্ষার্থীদের উপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা প্রণোদিত নগ্ন হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয় ৮ জন। ‌ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। কলেজের অধ্যক্ষের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছিল। হঠাৎ প্রথম বর্ষের দু'গ্রুপের মধ্যে কথা কাটাকাটির সূত্রপাত হয়। একটা গ্রুপ খেলা চালানোর পক্ষে থাকে। আরেকটা গ্রুপ খেলার বিপক্ষে যায় এবং তারা খেলা পন্ড করতে সিনিয়রদের ডেকে আনে। যারা ক্যাম্পাসে ৬৯ ব্যাচের রাজিউল কাউনাইনের অনুসারী।

খেলা চালানোর পক্ষের ছেলেরা তাৎক্ষনিক হলের উপ-প্রাধক্ষ্যকে অভিযোগ জানায়। উপ-প্রাধ্যক্ষ আসতে ১০ মিনিট দেরী হওয়ায় এরমধ্য কাউনাইনের অনুসারীরা মাঠে যেয়ে প্রথম বর্ষের জুনিয়র শিক্ষার্থীদের স্টাম্প, হকিস্টিক, হাতুরি, বাঁশ ও বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে মাঠের মধ্যেই গুরুতর জখম করে। এরপর আহত গ্রুপটি হলের ভেতরে গিয়ে তাদের পরিচিত সিনিয়রদের আশ্রয় নেয়। তারা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের হামলা চালিয়ে ক্ষান্ত হয়নি। তারা আবারও স্টাম্প, জিআই পাইপ, বাঁশ ও হকস্টিক নিয়ে হামলা চালায়। এই হামলায় অংশগ্রহণ করে রাজিউল কাউনাইন(কে-৬৯)সহ তার অনুসারী আব্দুল্লাহ আল মুঈদ তিলক (কে-৭১) অক্সিন(কে-৭১) সামসদ সরোয়ার সামিন(কে-৭২), শিবির কর্মী সিয়াম শাহরিয়ার (কে-৭৩), সেক্রেটারি তানজিম ওরফে জুল(কে-৭৩), আদ্রিব(কে-৭৩), আপন(কে-৭৩), সৌরভ(কে-৭৩), দিদার(কে-৭৩) বিভিন্ন রকম সন্ত্রাস কার্যক্রমের সাথে জড়িত রাহাত (কে-৭৪), তানজিম অন্তর(কে-৭৪), মিজান(কে-৭৪), নওফেল(কে-৭৫) ও অর্পন(কে-৭৫)

এদিকে সংঘর্ষের পর ডা. ফজলে রাব্বী হল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত করে শিক্ষার্থীদের হলে ঢুকতে হচ্ছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিবদমান দু'পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে ঢামেক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বৈঠকে।

গত এপ্রিল মাসে হামলাকারীরা ময়মংসিংহ মেডিকেলে অনুষ্ঠিত সন্ধানীর সম্মেলনে ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক গ্রুপকে স্থানীয় লোকদের দ্বারা মারধর করে আটকে রেখে নিজেরা সংবিধান বহির্ভূত অবৈধ সন্ধানীর কমিটি তৈরী করে। তখনও তারা সাধারণ ছাত্রদের উপর হামলা চালায়। এই গ্রুপটি আজও আক্রমণ চালিয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।