banglanewspaper

ডেস্ক নিউজ: স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানকে নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তিনি ওই ভার্সিটির টাকা বিদেশে পাচার করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ট্যাক্স ফাঁকি, ঋণ খেলাপি, ট্রাষ্ট থেকে সম্মানি গ্রহণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজের মনগড়া নিয়ম চালু, সিদ্বেশ্বরী ক্যাম্পাসের ভাড়া বকেয়াসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে তিনি বিদেশে গ্রেফতারও হয়েছিলেন।

অভিযোগ তিনি বিদেশে অর্থপাচার করেন। বিষয়টি নিয়ে বিশেষ একটি সংস্থা তদন্ত করছে বলেও জানা গেছে। স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ওই বিতর্কিত চেয়ারম্যানের নাম ফাতিনাজ ফিরোজ। তিনি প্রয়াত চেয়ারম্যান ড. হান্নান ফিরোজের স্ত্রী। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি একক ক্ষমতাধর ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে অর্থ লোপাটেরও অভিযোগ উঠেছে।স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান গ্রেফতারের সংবাদ বিভিন সূত্রে জানা গেছে, ফাতিনাজ ফিরোজ সরকারের ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে নিজের কাজ ঠিকই করছেন। তার কোন ছেলে নেই কেবল দুটি মেয়ে রয়েছে। একজন থাকেন বিদেশে। আর অন্যজন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। তিনি হলেন জারানাজ ফিরোজ। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্থপাচারেরও অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিস্টরা জানিয়েছেন। অন্যদিকে এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, তিনি এনবিআরে যে কয়টি ব্যাংকের হিসাব দাখিল করেছেন সে কয়টি একাউন্টে তেমন কোন টাকা নেই। তবে অন্য একটি একাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা রয়েছে। এনবিআরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশনা করার শর্তে জানান, কয়েকদিনের মধ্যেই তারা অ্যাকশনে যাবেন। ফ্রিজ করা হবে তার ওই ব্যাংক একাউন্ট।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি নিজের মতো আইন চালু করেন। ধার ধারেন না কোন ট্রাস্টি বোর্ডের। সূত্র জানায় একাউন্ট বিভাগে জহিরুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম নামে দুই কর্মকর্তা খাকলেও তিনি তাদের মাধ্যমে কোন কাজ করতে রাজি নন। তিনি নিজের ব্যক্তিগত কর্মচারি মোতাহারকে দিয়ে একাউন্টের সব কাজ কর্ম চালান বলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে কোন ট্রাষ্টি বা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কোন ধরনের সম্মানি নিতে পারে না। কিন্তু ফাতিনাজ ফিরোজ, তার মেয়ে ও মেয়ের জামাইসহ তার ট্রাস্টের অনেকেই মোটা অংকের টাকা বিভিন্ন কৌশলে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদেরকে দিয়ে তিনি তার বাসাবাড়ির কাজ কর্ম করান বলেও অভিযোগ মিলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেছেন ম্যাডাম আমাদেরকে দিয়ে তার ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাজ করান। একটু এদিক সেদিক হলে তিনি গালমন্দ করতে সিদ্ধহস্ত।

সংশ্লিস্টরা জানান, ২০০৬ সালের মার্চ মাসে মার্কিন পুলিশ তৎকালীন টিভি চ্যানেল এসটিভির প্রধান ও বর্তমান স্টামফোর্ড ভার্সিটির চেয়ারম্যান ফাতিনাজ ফিরোজকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে নিউজার্সির এলিজাবেত ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়। পুলিশ জানায় অভিবাসন সমস্যা, অর্থপাচারসহ নানান বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তার ওপর কড়া নজর রাখছিলো। তারা অবশেষে তাকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি নিউ ইয়র্কে বিভিন্ন সামাজিক কাজে নিয়মিত তৎপরতা চালাতেন। এ ব্যাপারে সে সময়ে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংবাদ পত্রে এ খবর বেরিয়েছিল।

অন্যদিকে ঋণ খেলাপিদের তালিকায় রয়েছে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম। ২০০৩ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফিনান্স থেকে ১৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ঋণ নেয়। ৩১ ডিসেম্বর ২০০৯ সালে ঋণটি খেলাপি ঘোষিত হয়। প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফিনান্সের পাঠানো শীর্ষ ১০ খেলাপির তালিকায় স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান প্রথম।

২০০৫ সালে ন্যাশনাল হাউজিং ফিন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড থেকেও স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ২ কোটি ৭ লাখ টাকা ঋণ নেয়া হয়। ওই ঋণটিও খেলাপি হয়। তাদের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম। তখনকার প্রতিবেদনে ড. হান্নান ফিরোজ (প্রয়াত), তার স্ত্রী ফাতিনাজ ফিরোজসহ সাত জনের নাম রয়েছে। ঋণে খেলাপির বিষয়েও সংবাদ ছাপা হয়েছিল।

এসব নানান অভিযোগ প্রসঙ্গে বোর্ড চেয়ারম্যান ফাতিনাজ ফিরোজের সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি। তবে স্ট্যামফোর্ডের অন্যতম ট্রাষ্টি ও ফাতিনাজ ফিরোজের মেয়ে ফারহানাজ ফিরো জ বলেন, আমি এসব কিছু জানি না। এটাতো আমার মায়ের বিষয় তিনিই এর জবাব দিতে পারবেন। ঋণ খেলাপির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটিও আমার জানানেই।

নানান অনিয়ম, সিদ্বেশ্বরী ক্যাম্পাসের ব্যাপারে ফারহানাজ ফিরোজের স্বামী ও ট্রাষ্টি একেএম ফারহান বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা বা অভিযোগ আমার জানা নেই। আমরা ভাড়া নিয়মিত দিয়েই ক্যাম্পাস পরিচালনা করছি। ঋণ খেলাপির প্রসঙ্গে তিনি কোন জবাব দিতেও রাজি হননি।

বাংলাদেশ ট্রেডিং কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী ড. অশোক গুপ্তের আইন উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট কাজী শরিফুল ইসলাম জানান, স্টামফোর্ডের চেয়ারম্যান সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসের ভাড়া পরিশোধের ব্যাপারে ইতোমধ্যে ১২টি চেক জালিয়াতির ব্যাপারে মামলা হয়েছে। আরও ৪/৫টি মামলা দায়ের করা হবে।

তিনি আরও বলেন ভাড়া না দিয়ে মিথ্যা কথা বলে সময় ক্ষেপন করে। এদের নিজস্ব কোন ক্যাম্পাস নেই। আমাদের ভবনটি দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বেতন ও ভাড়া বৃদ্ধি করছে আর আমাদের বকেয়া টাকার কথা বললে টাকা নেই বলে জানিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে এত দিন ক্যাম্পাসটি বন্ধ করিনি। এবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন অনুমতি দিয়েছে। আমরা সেদিকেই যাব বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের পরিচালক (বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়) ফখরুল ইসলাম জানান, কোনও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাষ্টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনও সম্মানি গ্রহণ করার বিধান নেই। কেউ যদি নিয়ে থাকে তাহলে সেটা অন্যায় করেছেন। নিয়ম ভঙ্গ করেছেন।