banglanewspaper

জাতীয় পার্টির পাশাপাশি একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতীক নিয়ে জয়ী ১৪ দলের নেতাদেরকেও সংসদে বিরোধী দলে দেখতে চান ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।  বলেন, ‘সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসবেন ১৪ দলের শরিকরা। বিরোধী দলের আসনে বসলে সরকারে জন্যেও ভালো। তাদের জন্যেও ভালো।’

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশের প্রস্তুতি পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

গত ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে আওয়ামী লীগ ও তার শরিকরা মোট ২৮৮টি আসনে জয় পায়। রাজনীতিতে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও তার শরিকরা আটটি আসন পাওয়ার পর বিরোধী দলে কারা বসবে, এ নিয়ে তৈরি হয় আলোচনা। পরে ২২টি আসন পাওয়া জাতীয় পার্টি বিরোধী দল হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।

গতবার বিরোধী দলে থাকার পাশাপাশি মন্ত্রিসভাতেও যোগ দেয় জাতীয় পার্টি। তবে এবার তাও করেনি তারা। জাতীয় পার্টির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের অন্য শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদকেও দেওয়া হয়নি মন্ত্রিত্ব। আর এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর পর আওয়ামী লীগের নেতারা ইঙ্গিত দেন, তারা চান বিরোধী দলের আসনে বসুক শরিকরা।

মহাজোটের দ্বিতীয় প্রধান দলটি তার নিজের প্রতীক লাঙ্গল নিয়ে ভোটে লড়ায় বিরোধী দল হতে তাদের কোনো বাধা ছিল না। তবে নৌকা নিয়ে জয়ী শরিকরা সরকারি দলের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারবে কি না, সেটি নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন আছে।

তার পরেও শরিকদেরকে বিরোধী দলে দেখতে চাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শরিকরা বিরোধী দলে থাকলে সমালোচনা থেকে সরকার শুদ্ধ হতে পারবে।’

তাহলে কি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জোট ভেঙে যাচ্ছে?- এমন প্রশ্নে জবাব আসে, ‘১৪ দলীয় জোট আদর্শিক ও নির্বাচনী জোট আর মহাজোট কৌশলগত জোট। মহাজোট বা ১৪ দলে কোন টানাপোড়েন নেই, ভাঙনের সুর নেই, বিভেদ নেই। তবে কোন ভুল বোঝাবুঝি হলে আলোচনা করে তা নিরসন করা হবে।’

উল্টো বিএনপি নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টেই ‘ভাঙনের সুর’ দেখছেন আওয়ামী লীগ নেতা। বলেন, বিএনপি এখন বেপরোয়া হয়ে গেছে। তবে সরকার ধৈর্যশীল।

শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশটি স্মরণকালের বিশাল জমায়েত হবে বলেও ভবিষ্যৎবাণী দেন কাদের। বলেন, ‘নির্বাচনে গণজোয়ারের মত ১৯ তারিখেও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণজোয়ার সৃষ্টি হবে।’

গত ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে জয় উদযাপন করতে এই সমাবেশ ডেকেছে ক্ষমতাসীন দল। এতে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।