banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ ‘অনেক কষ্টের পরে বিদ্যুৎ পাইছি। দুইডা বাতি, শুধু রাইতের বেলায় জ্বালাই। মাসের শেষে বিল দিতে গেলে ঘরের চাউল কেনার জন্য ট্যাহা থাহেনা। আগেই বালা আছিলাম। কুপি বাতি জ্বালাইয়া চলতাম।’

বলছিলেন- গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের বিন্দুবাড়ী গ্রামের আব্দুর রউফ মিয়া। আব্দুর রউফ মিয়ার মত এমন অভিযোগ হাজারো গ্রাহকের।

ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ সুত্রে জানা যায়, এলটি (২৩০-৪০০ ভোল্ট) আবাসিক মিটারে লাইফ লাইন ০-৫০ ইউনিট ৩.৫০ টাকা। এছাড়াও ০-৭৫ ইউনিট ৪ টাকা, ৭৬-২০০ পর্যন্ত ৫.৪৫ টাকা, ২০১-৩০০ পর্যন্ত ৫.৭০টাকা, ৩০১-৪০০ পর্যন্ত ৬.২টাকা, ৪০১-৬০০ পর্যন্ত ৯.৩০ টাকা এবং ৬০০ ইউনিটের উর্ধ্বে হলে ১০.৭০টাকা দরে বিল করা হয়। এর সাথে রয়েছে ডিমান্ড চার্চ ২৫ টাকা, মিটার ভাড়া ১০ টাকা ও অন্যান্য ভ্যাট।

তবে অনেক গ্রাহকদের অভিযোগ, এলটি আবাসিক মিটারে লাইফ লাইন ০-৫০ ইউনিট ৩.৫০ টাকা দরে থাকলেও এর সুবিধা পায়না সাধারণ গ্রাহকরা। কেন না প্রতি মাসেই অফিস থেকে কোন না কোন রিডিং সমস্যা দেখানো হয়।

অন্যদিকে, মিটার রিডিং স্বচক্ষে না দেকে তাদের মনগড়া মত বিল তৈরী করে থাকে পল্লী বিদ্যুতের নিয়োজিত মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জাররা। তাই কোন মাসে স্বাভাবিক বিল বানালেও বেশীরভাগ সময়ই বিলে থাকে ব্যাপক তারতম্য। ফলে রিডিংয়ের বিড়ম্বনায় বেকায়দায় রয়েছে হাজারো গ্রাহক। এতে অনেক গ্রাহকদের মাস শেষে নিট বিলের সাথে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়। পাশাপাশি থাকে কিছু জরিমানা দেয়ার ভয়।

এভাবেই ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ব্যবস্থাপনা বিভাগ নানা অনিয়ম ও কৌশলে  গ্রাহকদের সাথে প্রতারনা করছে বলেও জানায় তারা।

শ্রীপুর বাজারের ব্যবসায়ী আলহাজ্ব আব্দুর সাত্তার জানান, ‘প্রতি মাসেই বিল বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। পল্লী বিদ্যুতের ব্যবস্থাপনায় যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। গ্রাহকদের সুবিধার্থে সেবার মান আরো বাড়ানো জরুরী।’

ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর শ্রীপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির জানান, ‘প্রত্যেক মিটার রিডারম্যান কাম মেসেঞ্জারদের প্রতিটি মিটার স্বচক্ষে না দেখে রিডিং লিখার কথা না। এমন অভিযোগ পেলে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানোর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এমন অভিযোগে চাকুরী হারিয়েছে অনেক রিডারম্যান।’

‘দালালদের খপ্পর থেকে রেহাই পেয়ে গ্রাহকরা যেন সহজেই বিদ্যুৎ সেবা পায় সেজন্য অভিযোগ বক্স তৈরী করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।’

ময়মনসিংহ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জিএম প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, ‘গ্রাহকদের সর্বোত্তম সেবা দিতে আমরা সব সময়ই প্রস্তুত থাকি।  পল্লী বিদ্যুতের কোন কর্মচারী অনিয়মের সাথে জড়িত থাকলে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।’