banglanewspaper

সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন উপ-কমিটির মিডিয়া সেলের সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন ডেন্টিস্ট আদেলী এদিব খান। তিনি ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক। এছাড়াও আমার এমপি আইসিটি ডিভিশনে সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি’র অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন।

আদেলী এদিব খান একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি বলেন, সাতক্ষীরা জেলা থেকে যে কয়জন দলীয় মনোনয়ন চান সবার থেকে আমি বয়সে ছোট। আমি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। মাঠ পর্যায়ের রাজনীতি ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আমি আওয়ামী লীগ তথা সরকারের অভূতপূর্ব উন্নয়ন মানুষের কাছে তুলে ধরছি।

তিনি জানান, সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন উপ-কমিটির মিডিয়া সেলের সদস্য হিসেবেও কাজ করেছি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগের প্রচার প্রচরণার বিভিন্ন গ্রুপের অ্যাডমিন, মডারেটর, সদস্য হিসেবে কাজ করছি।

এর মধ্যে চিরায়ত বাংলাদেশ, উন্নয়নের অভিযাত্রায় অদম্য বাংলাদেশ, গুজবে কান দিবেন না, আমি জয় বাংলা লোক উল্লেখযোগ্য। এছাড়া অনলাইন ভিত্তিক লাইভ শো’র পরিচালক ও উপস্থাপক হিসেবে ডেন্টাল ক্যাফে লাইভ শো স্বাস্থ্য টিভি.কমে কাজ করছি। পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখির মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি মানুষের কাছে তুলে ধরছি। আমার এসব কর্মকাণ্ড মানুষের সেবা দিতে উৎসাহ যুগিয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা তরুণদের খুব ভালবাসেন।

আদেলী বলেন, শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার। আর তার এই ডিজিটাল বাংলাদেশে অনলাইনে সরকারের উন্নয়ন, অগ্রগতি মানুষের মাঝে তুলে ধরছি, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র যেমন রাজপথে থেকে মোকাবেলা করছি তেমনি অনলাইন যোদ্ধা হিসেবেও লড়ে যাচ্ছি। তাই আমি আশাবাদি।

আমার মত অনেকেই এখান থেকে মনোনয়ন চাইবেন। নেত্রী যদি আমাকে কাজ করার সুযোগ দেন তাহলে আমি আমার এলাকার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবো। আমি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে দেখিনি কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনাকে দেখেছি। তিনিই আমার আদর্শ। আমি তাঁর মত মানুষকে ভালবেসে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকতে চাই।

সাতক্ষীরার সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়ন, মাদক নির্মূল, প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা, বাল্য বিবাহ বন্ধে সচেতনা সৃষ্টি করা, নারীদের রাজনীতিতে যুক্ত করা, সাতক্ষীরার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মুক্তিযুদ্ধ ভাস্কর্য নির্মাণ, এ অঞ্চলের তরুণদের জন্য আইটি ফার্ম ও মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর স্থাপন, সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে নারী পুরুষের সমতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেবো।

আদেলী এদিব খান বলেন, এ অঞ্চলের যুবকদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেবো। এ অঞ্চলের মানুষের দোয়া ও ভালবাসায় আমি যদি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায় তাহলে আমি বিশ্বাস করি একজন তরুণ নেতা হিসেবে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মানুষের পাশে থেকে সেবা দিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবো। আমি সকলের দোয়া প্রার্থী।

প্রসঙ্গত, আদেলী এদিব খান ১৯৯৪ সালের ৮ জানুয়ারি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার রেজিস্ট্রি অফিস পাড়ার ২নং ওয়ার্ডে। বাবা শাহ নেওয়াজ খান ও মাতা ফেরদৌস আরা’র দ্বিতীয় সন্তান তিনি। আদেলী এদিব খানের ছোটবেলা সাতক্ষীরাতে কাটলেও বাবা শাহ নেওয়াজ খান সরকারি কর্মচারী হওয়ায় ২০০৭ সালের পর তারা সপরিবারে চলে যান ঢাকাতে।

ছোট থেকেই একটি রাজনৈতিক পরিবেশে তার বেড়ে ওঠা। বাবা তাঁর ছাত্রজীবনে পঞ্চগড় কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মূলত বাবার অনুপ্রেরণায় তার ছাত্রলীগের রাজনীতিতে আসা।

নারী উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের সাথে নিজের কাজকে সমন্বয় করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজনীতিতে আসা আদেলী এদিব ২০০৯ সালে ঢাকার মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০১১ সালে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।

ঢাকার মেন্ডি ডেন্টাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল থেকে ব্যাচেলার অব ডেন্টাল সার্জারি পাশ ও ঢাকা ডেন্টাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল থেকে ইন্টার্নশিপ করেন।

আদেলী খানের বড় বোন হোমায়রা এদিব খান পেশায় স্থাপত্যবিদ। বর্তমানে তিনি জার্মানিতে আছেন এবং জার্মানি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছোট ভাই শাহরুখ খান অ্যারোনটিকাল ইঞ্জিনিয়র। সে স্কলারশিপ নিয়ে চীনের বেইজিং-এ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিচ্ছেন।

আদেলী এদিব খান রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নিয়মিত কলাম লেখার মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্মের রাজনীতি, বাংলাদেশে নারী রাজনীতির বিভিন্ন দিক ও মানুষকে নিয়ে ভবিষ্যৎ রাজনীতির চিন্তাধারা তুলে ধরেন।