banglanewspaper

হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বক্তব্য নারী শিক্ষার বিরুদ্ধে নয় বরং নারীদের ইজ্জত-আব্রু ও নিরাপত্তার স্বার্থে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জনসেবা আন্দোলন। তারা আরও দাবি করে, কিছু কুচক্রী মহল আল্লামা আহমদ শফীর বক্তব্য অপব্যাখ্যা করে সমালোচনা করেছেন। অপব্যাখ্যাকারীদের শাস্তির দাবিও করেছে তারা। 

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বুধবার (১৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জনসেবা আন্দোলন মানববন্ধন করে এ দাবি জানায়।

মানববন্ধনে উপস্থিত হয় জনসেবা আন্দোলনের চেয়ারম্যান মুফতি ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আল্লামা আহমদ শফী সাহেব বলেছেন ১১ জানুয়ারি হাটহাজারী মাদ্রাসার মাহফিলে মেয়েদেরকে কলেজ ভার্সিটিতে পড়তে হলে পর্দার সাথে পড়াবেন। নতুবা নারীদের জন্য স্বল্প শিক্ষাই যথেষ্ট। এই বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে কিছু কুচক্রী মহল আল্লামা আহমদ শফীর সমালোচনা করেছেন। আহমদ শফির বক্তব্যের অপব্যাখ্যাকারিদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি ‘

ড. কামাল ও মির্জা ফখরুলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আল্লামা আহমদ শফী নারীদের ইজ্জত রক্ষার কথা বলার কারণে ড. কামালরা মামলা করতে চান। বাংলাদেশের শুধু ২০১৮ সালে ৯৪২ জন নারী ধর্ষিত হয়েছে, তখন ড. কামাল-ইনুদের নারী দরদ ও মামলা কোথায় থাকে? আল্লামা আহমদ শফীর বক্তব্য শুনে মির্জা ফখরুল হতবাক। কিন্তু যখন শিক্ষকের হাতে ছাত্রী ধর্ষিত হয়, স্কুল কলেজের ক্লাস রুমগুলোতে যখন ছাত্রের হাতে ছাত্রী ধর্ষিত হয়, যাত্রাপথে বাস-ট্রেনগুলোতে নারীরা ধর্ষিত হয় তখন তারা হতবাক না হয়ে ইনজয় করেন। জাতির জিজ্ঞাসা, তখন কোথায় থাকে তাদের নারী দরদ?’

তিনি আরও বলেন, ‘আল্লামা শফী কয়েক যুগ ধরে হাদিস পড়াচ্ছেন। শেষ বয়সে এসে আপনাদের নিকট থেকে তার হাদিস শিক্ষা গ্রহণ করা লাগবে না। কিছু না পেয়ে আপনারা এখন হাদিস খুঁজেন। আপনাদের এই হাদিস ও সংবিধান কোথায় ছিল, যখন সুবর্ণচরে ভোট দেয়ার কারণে দশজন মিলে তিন বাচ্চার মা কে ধর্ষণ করে।’

মুফতি ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আল্লামা শফীকে আজ আপনারা হাদিস ও সংবিধান শিক্ষার্থী। ইনু-রিনাদের সাবধান করে দিচ্ছি, আল্লামা শফীকে তেতুল হুজুর না বলার জন্য। আগামীতে যদি আরও বলেন, তাহলে আমরাও নারীলোভী বলতে দ্বিধাবোধ করব না।’

মানববন্ধনে সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা ইয়ামিন হুসাইন আজমী বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ডঃ মোঃ আব্দুর রশিদ ও ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, হাসানুল হক ইনু, আফরোজা হক রিনা ও রৌশন আরা যৌথ বিবৃতিতে সংবিধানের ২৮ এর ২ ও ৩ দ্বারা উল্লেখ করে আল্লামা আহমদ শফীকে ইসলাম ও রাষ্ট্রদ্রোহী বলতেও দ্বিধা বোধ করেননি। তাদের বলছি সংবিধান মানব কর্তৃক রচিত। আর ধর্ম স্রষ্টা কর্তৃক রচিত। অতএব ধর্ম সংবিধানের ঊর্ধ্বে।’

আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিন। মুখ সামলে কথা বলুন। নতুবা পরিণতি ভালো হবে না।’

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন মুফতি আশিক জোবায়ের, মৌলানা আবুল কাশেম কাসেমী, আলহাজ মো: আজম খান, মাওলানা হোসাইন আকন্দ প্রমুখ।