banglanewspaper

সদ্য বিদায়ী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, বিদায় অনেক মধুর এবং কষ্টের। তবে আমি প্রথমেই যিনি এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন তাকে শুভেচ্ছা জানাতে চাই। ডা. এনামুর রহমান আমার খুব কাছের ছোট ভাই। ও আমার চেয়ে ভাল পারবে।

মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রীকে দায়িত্ব বুঝে দিতে এসে শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মায়া নতুন মন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ওর যদি মন ভাল থাকে, পরিষ্কার থাকে, কাজ করার ইচ্ছে ও সাহস থাকে তাহলে ওর জন্য যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব হবে। আর যদি ওর সঙ্গে সচিব থাকে তাহলে ওর দ্বারা অনেক কিছুই সম্ভব হবে। কারণ আমি এর আগে তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছি সেখানে আমার সঙ্গে সচিবরা ভালভাবে থাকার কারণেই অনেক কিছু করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরাতো রাজপথের মানুষ, স্লোগান দিয়েই আমাদের দিন শুরু হয়। মানুষের সঙ্গে অনেক মেলামেশা করেছি। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি করেছি আমরা। এরপর বঙ্গবন্ধুর ডাকে জীবনের মায়া না করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি। এভাবে ধাপে ধাপে এই জায়গায় এসেছি।

ইতোপূর্বে তার কৃতকর্মের উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরে মায়া বলেন, জীবনের তিনটি জিনিস আমি দেশকে, জাতিকে ও দলকে উপহার দিয়েছি। একটি হলো দেশের জন্য যুদ্ধ করা। আমি শহীদ মিনারে রক্ত দিয়েছে কয়েক পাউন্ড। যারা সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলো তাদেরকে রক্ত দিয়েছে। আর তৃতীয় হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর যখন গ্রেনেড হামলা করা হয়েছিল অনেকে কিন্তু ট্রাক থেকে নেমে গিয়েছিলেন তখন আমি মায়া কিন্তু তাকে ছাড়িনি। তাকেই নিয়ে কিন্তু ট্রাক থেকে নেমেছি। তাকে তার ঘরে পৌঁছে দিয়ে তারপর আমি নিজের বাসায় গেছি।

তিনি বলেন, অনেক সময় মন্ত্রী হিসেবে আমরা তেমন কাজ করতে পারি নাই। সচিবরা অনেক কাজই করেছে। তবে আমরা অনেক ক্ষেত্রে গাইডলাইন দিয়েছি। অনেক ক্ষেত্রে এখানে আমলাদের সঙ্গে আমার কিছু ক্ষেত্রে মতোবিরোধ হয়েছে। কারণ আমরা পলিটিকস করি। অনেক ক্ষেত্রে যুবলীগ আছে, মহিলা লীগ আছে, ছাত্রলীগ আছে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের বিভিন্ন দাবি মেনে নিতে হয়। সেক্ষেত্রে আমলারা আমার সঙ্গে দ্বিমত করতো। কিন্তু আমি হয়তো তাদের চাপ দিয়েও করেছি।

মায়া বলেন, এটা তাদের জন্য অবশ্য ঠিক ছিল। কারণ তাদেরও তো চাকরি করতে হয়। সঠিক বেঠিক অনেক কিছুই তাদের দেখতে হয়। তবে আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমার দায়িত্ব পালন করা কালে কেউ না খেয়ে মরেনি।