banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ ৩০ ডিসেম্বর সারাদিন নির্বাচনের আমেজ ছিল তার চায়ের ‘টং’ দোকানে। ভোট শেষে গননা হবে। টিভিতে একের পর এক আসনের খবর দেখছিল চায়ের কাপ হাতে নিয়ে ক্রেতারা। চায়ের কাপে চলছিল নির্বাচনী আলোচনার ঝড়। এসময় কেরোসিন চালিত স্টোপের চুলা হঠাৎ বিষ্ফোরিত হয়।

চুলায় থাকা কেরোসিন মুহুর্তেই সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। চুলায় থাকা আগুন শরীর দাও দাও করে জ্বলতে থাকে। পাশের লোকজন কিছু বুঝে উঠার আগেই দেহের অধিকাংশ জ্বলছে যায় গাজীপুরের শ্রীপুরের নিবারণ চন্দ্র বর্মণের।

উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের বিন্দুবাড়ী গ্রামের আদিবাসী খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের বলাই চন্দ্র বর্মণের পুত্র। পরে টানা ৮দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে ৬ জানুয়ারি রাত ৮টায় মারা যান।

নিহতের ছেলে উজ্জ্বল বর্মণ জানান, ‘নির্বাচনের দিন সন্ধ্যায় বাবা দোকানে বসে চা বানাচ্ছিল। এসময় টিভিতে বিভিন্ন এলাকার খবর দেখছিল দর্শকরা। চা বানানোর এক পর্যায়ে হঠাৎ কেরোসিন চালিত চুলা ছিটকে বাবার শরীরে পড়ে। এতে আগুনে জ্বলে উঠে বাবার শরীর। দোকানের সামনে ও চারপাশে নেট এবং জানালার ন্যায় ছোট দরজা থাকায় সহজেই বাবাকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসতে পারেনি।’

‘পরে বাবা লাফিয়ে বাহিরে আসলে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে প্রেরণ করা হয়।’

বার্ণ ইউনিটে কয়েক দিন থাকার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানায়, ‘তার শ্বাসনালীসহ প্রায় ৬০ শতাংশ পুঁড়ে গেছে।’

৬ জানুয়ারি রাত ৭টায় হাসপাতাল হতে নিজ বাড়ীতে আনার পর রাত ৮টায় তিনি মারা যান। সোমবার বেলা ১টায় অন্তর্ষ্টিয়া খ্রীষ্টযাকের মাধ্যমে তার পাড়ীর পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

কেওয়ারচালা চেন অগাস্টিন ক্যাথলিক চার্চ ফাদার সুমির ফ্রান্সিস রোজারিও নিবারণ বর্মনের আত্মার চির শান্তি কামনায় পবিত্র খ্রীষ্টযাক উৎসর্গ করেন।