banglanewspaper

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: আমাদের সমাজের চার পাশে এমন হাজারও ভদ্র মুখোশ ধারি দালাল চক্র রয়েছে যাদের জন্য সুমির মতো হাজারও মেয়ে প্রতিনিয়ত তাদের অধিকার হারিয়ে ফেলছে। 


এমন একটি ঘটনা লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের পাঁচমাথা এলাকার বাসিন্দা হতদরিদ্র মোজাম্মেল এর কন্যা সুমি বেগম (১৮) স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে একই ইউনিয়নের চাপারতল পুর্বপাড়া এলাকার শাহজাহান (৫২) এর ছেলে রিয়াদ (২১) এর বাড়িতে গত ৩ জানুয়ারি বিকাল থেকে ৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত অনশন ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছিলো। 


কিন্তু স্থানীয় কিছু দালাল চক্রের সহযোগিতায় মাহাবুব মুহুরি ১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিষয়টিকে ধামা চাপা দেয় এবং মেয়েকে বাড়িতে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে লালমনিরহাট জেলা রিপোর্টাস ইউনিটের সভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, প্রচার সম্পাদকসহ স্থানীয়দের কয়েকজনের সহযোগিতা পেয়ে সুমি দালাল চক্রদের মূখোশ খুলে দিয়ে আবারও ৫ জানুয়ারি সকাল থেকে স্ত্রীর অর্ধিকার আদায়ে স্বামী রিয়াদের বাড়িতে অনশন ধর্মঘট করছে।


ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, স্বামী রিয়াদ স্ত্রী সুমিকে পালিয়ে ১৮-০৭-২০১৮ তারিখে রেজিস্ট্রি মোতাবেক ৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে বিয়ে করে। প্রায় ৫ মাস ধরে দুজনে স্বামী স্ত্রীর হিসাবে  গাজীপুরের সখীপুর এলাকায় সংসার করে আসছিল। বেশ সুখের ছিল তাদের এ সংসার। গত ১১ ডিসেম্বর রিয়াদের পিতা শাহজাহান ভয় দেখালে রিয়াদ পিতার নির্দেশে সুমিকে একা রেখে পালিয়ে যায়। পরে সুমি কোনরুপ কূলকিনারা না পেয়ে স্বামীর বাড়িতে চলে আসে। রিয়াদের পিতা শাহাজান প্রভাবশালী হওয়ার কারণে তারা মেয়েটি স্ত্রীর স্বীকৃতি দিতে রাজি হয়নি। ফলে এলাকার কিছু প্রভাবশালী লোকের মাধ্যমে অনশনরত সুমিকে ও তার দরিদ্র পিতা মোজাম্মেলকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে।
  
এ বিষয়ে সুমির দেয়া জবানবন্দিতে জানাগেছে, তাকে ও তার বাবাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে স্থানীয় মাহাবুর মুহুরি (পাঁচমাথা) সুমিকে জোরপুর্বক বাড়িতে পাঠায়। তবে টাকার লেনদেনের বিষয়ে কিছুই জানে না। অনশনরত সুমি একটি কথাই বলে, আমি আমার স্বামীর সংসার ফেরত চাই। মাহাবুর মুহুরি আমার স্বামীকে তালাক দিতে চাপ প্রয়োগ করছে।


এ বিষয়ে কাকিনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিষয়টি হস্তক্ষেপ করলে তিনি সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। ইউপি সদস্য আতাউজ্জামান রন্ঞ্জু বলেন,  দরিদ্র পরিবারের মেয়েটি যেনো স্ত্রীর স্বীকৃতি ফিরে পায় সে জন্য এলাকাবাসিকে এগিয়ে আসতে হবে। ইউপি সদস্য পাইরুল ইসলাম হড্ডু বলেন, আমরা সমাধানের চেস্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছি। এলাকাবাসি এর সুষ্ঠ সমাধান চায়। কালীগঞ্জ থানা’র এসআই সাইদুল হক বিষয়টি প্রাথমিক ভাবে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।