banglanewspaper

বাতাসে শীতের আমেজ। নগরের মোড়ে মোড়ে পিঠার দোকান আর হঠাৎ হিমেল হাওয়া জানিয়ে দিচ্ছে এখন সময় শীতের। দিন কয়েক আগেও ঘরে ফ্যান-এসি ছাড়া

থাকা অসম্ভব ছিল, কয়েকদিনের ব্যবধানে সেখানে শীতের পোশাক খোঁজাখুঁজি শুরু হয়ে গেছে। কারণ, উত্তরের বাতাস বইতে শুরু করেছে। আর উত্তরের বাতাস মানেই শীতের আগমণ। প্রকৃতির নিয়মে বছর ঘুরে শীতের আগমনে তাই ঘরে-বাইরে চলছে প্রস্তুতি।

নগরজীবনে যারা খুব সকালে হাঁটতে বের হন কিংবা একটু রাত করে ঘরে ফেরেন তারা এই সময়ের শীত বেশ ভালোভাবেই অনুভব করেন। তাই তো শীতল হাওয়ায় গরম থাকতে গায়ে একটা হালকা শীতের কাপড় চাপাচ্ছেন তারা। শীতের আগমণে বসে নেই কেউ। কেউ ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা করছেন, কেউবা ঠিক করছেন কোন কোন মেলায় যাওয়া যায়! কিন্তু সেসবের আগে প্রয়োজন কিছু অতিপ্রয়োজনীয় প্রস্তুতির। ফ্যাশন থেকে রূপচর্চা, সবকিছুতেই দরকার একটু বাড়তি সতর্কতা।

ওয়্যারড্রোব

নগরজীবনে শীতের দেখা মেলে খুব অল্প কয়েকদিনের জন্য। বছর জুড়েই কেবল গরমের ছোঁয়া। সে কারণে নগরজীবনে শীতের আগমন উৎসবের মতোই। আশপাশে নানা উৎসবের আমেজ। শীতল হাওয়ায় নানান উৎসবে নিজেকে উষ্ণ রাখতে প্রথমেই চোখ দিতে হবে ওয়্যারড্রোবের দিকে। নিচে পড়ে থাকা শীতের কাপড়গুলো বের করে নিন। অন্য কাপড়গুলো গুছিয়ে নিয়ে শীতের কাপড়গুলো উপরের দিকে রাখুন। ফুলস্লিভ টি-শার্ট বা একটু মোটা কাপড়ের পোশাকগুলো হাতের নাগালে রাখুন। জাম্পার, সোয়েটার, উলি-কট ড্রেস, লেদার জ্যাকেট পরার আগে একটু রোদে দিয়ে নিন। এছাড়া লেপ-কম্বল রোদে দিয়ে প্রস্তুত করে রাখুন।

অন্যদিকে এই শীতে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে শীতের পোশাকগুলো গুছিয়ে নিন। জাম্পার,সোয়েটার, উলি-কট ড্রেস, লেদার জ্যাকেট, হাতমোজা, পায়ের মোটা মোজা, কানটুপি পর্যাপ্ত আছে কিনা দেখে নিন। না থাকলে সময় করে কিনে রাখুন। যেন শেষ সময়ে তাড়াহুড়ো করতে না হয়। কিন্তু এই শীতে শহর ছাড়ার পরিকল্পনা না থাকলে এমন পোশাক বের করুন যেগুলো মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করে বা লেয়ার করে নতুন লুক পেয়ে যাবেন। পঞ্চো, হালকা শাল, সোয়েটার- এ সবেই মোটামুটি ঠাণ্ডা কেটে যাবে। হালকা শীতে ওভারঅল ডেনিমের সাজও ভালো লাগে।

শীত এলেই নতুন শীত-পোশাক কিনতে ইচ্ছে করে সবার। তাই শপিংয়ে যাওয়ার আগে মাথায় রাখবেন শহরে শীতকাল খুবই ছোট। তাই খুব দামি শীত-পোশাকেবিনিয়োগ না করাই ভালো। কেনার আগে আপনার প্রয়োজনের হিসাবটা কষে নিন।

পোশাকের রং

ডার্ক শেড পরার সেরা সময় শীতকাল। কালো, ধূসর, অলিভ গ্রিন, মেরুন, ইয়েলো, ম্যাজেন্ডা, প্লামের মতো রঙের পোশাক পরুন। চেক্স, টুইড পরুন। ধূসর শেডের পোশাকের সঙ্গে কালার পপ করার জন্য রঙিন স্কার্ফ ব্যবহার করুন। অনেক সময় দিনের বেলা গলা মুড়ে স্কার্ফ পরলে গরম লাগে। সে ক্ষেত্রে রেট্রো স্টাইলে মাথার চারপাশে স্কার্ফ পরতে পারেন।

জুতো

জুতোর দিকে নজর দিন। হাই বুটস না হলেও অ্যাঙ্কেল বুটস পরতে পারেন। না হলে এখন নানা স্টাইলের ফ্যাশনেবল স্নিকার্স পেয়ে যাবেন। কোনোটা আবার বুটসের মতোই দেখতে। এই শীতে পোশাকের সঙ্গে ব্লক হিলসও পরতে পারেন। আবার পা ফাটার সমস্যা যাদের বেশি তারা নানা রকম কিউট মোজা পরতে পারেন।

ত্বক-চুলের যত্ন 

শীতকালে ত্বক আর্দ্রতা হারায়। ঘরের ভেতর ও বাইরের তাপমাত্রায় যেহেতু একটা পার্থক্য দেখা যায়, তাই ত্বকের আর্দ্রতার ভারসাম্যও নষ্ট হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই শুকনো হাওয়ায় ত্বক ফাটতে শুরু করে। তাই দিনে তিন-চারবার ময়েশ্চারাইজার লাগাতে ভুলবেন না। মুখ ধোয়ার পর মুখে ভেজা ভাব থাকা অবস্থায় ময়েশ্চারাইজার লাগান। শীতকালে শরীরের অয়েল গ্রান্ড থেকে তেল কম নিঃসৃত হয় বলে হাত-পায়ের ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যায়। গোসলের সময় দীর্ঘক্ষণ ধরে গোসল করবেন না কিংবা গোসলে গরম পানি ব্যবহার করবেন না। কারণ এগুলো ত্বকের শুষ্কতা আরো বাড়িয়ে তোলে।

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় ময়েশ্চারাইজার মেখে ঘুমান। মনে রাখতে হবে, ত্বক একেবারে শুকিয়ে নিয়ে তারপর ময়েশ্চারাইজার মাখলে কাজ হবে না। ত্বকে ভেজা ভাব থাকতেই ময়েশ্চারাইজার মাখতে হবে। ত্বকের শুষ্কভাব দূর করতে গ্লিসারিন কিংবা অলিভ অয়েল নিয়মিত মাখতে পারেন। গ্লিসারিন হলো সবচেয়ে ভালো ময়েশ্চারাইজার। একভাগ গ্লিসারিনের সাথে দুভাগ পানি মিশিয়ে ব্যবহার করুন। গ্লিসারিনের আঠা-আঠা ভাবটা দূর করার জন্য গ্লিসারিন মাখার পর একটা ভিজে তোয়ালে বা কাপড় হালকা করে ত্বকে চেপে ধরলে আঠাভাব চলে যাবে। মাঝে মাঝে ম্যানিকিউর ও পেডিকিউর করাতে পারেন। শীতে চুলের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। আগা ফাটা, নির্জীব হয়ে যাওয়া, গ্রোথ কমে যাওয়া, খুশকি ও চুল পড়া শীতকালে বেড়ে যায়। তাই চুলে নিয়মিত তেল ম্যাসাজ করুন। সপ্তাহে দুইবারের বেশি শ্যাম্পু না করাই ভালো। চুলে ময়েশ্চারাইজার বজায় রাখার জন্য ভালো কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।