banglanewspaper

দক্ষিণ কোরিয়ায় গবেষণারত এনামুল হক মনিকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হলেও তিনি র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। বিভিন্ন পত্রিকার আদলে ওয়েবসাইট তৈরি করে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। সংস্থাটি বলছে, তার কাছ থেকে বিভিন্ন পত্রিকার ওয়েব হোস্টিং করা ২২টি ওয়েবসাইট পাওয়া গেছে।

শনিবার (২৪ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

তবে তার স্ত্রী নাজমিন সুলতানা নিপা এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘এনামুল কখনও এসব কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল না। তাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে। তার পিইচডির এটা শেষ বছর ছিল। তাই সেই গবেষণা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। সেখানে এসব গুজব ছড়ানোর সময় পাবে কখন?’

র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘বিভিন্ন পত্রিকার আদলে ওয়েবসাইট তৈরি করে তাতে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচারের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে সেগুলো কোনও কোনও পত্রিকা তার নিয়ন্ত্রণে ছিল তা তাৎক্ষণিক জানা যায়নি।’ 

এ বিষয়ে এনামুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও জানান এই র‍্যাব কর্মকর্তা। 

র‌্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন, ‘এনামুল বিভিন্ন অনলাইন থেকে খবর সংগ্রহ করে তার ওয়েব হোস্টিং করা ২২ টি অনলাইনে সেই খবর গুলো পোস্ট করত। বিশেষ উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বা রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে মিথ্যা সংবাদ, ভুয়া ও গুজব সংবাদ ছড়াতো। বিশেষ করে প্রথম আলো, বিবিসি বাংলা ও বাংলা ট্রিবিউনের আদলে অনলাইন তৈরি করে সেখানে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে আসছিল। ঘটনার অনুসন্ধানে নেমে এনামুলের জড়িত থাকার বিষয়টি জানতে পারে র‌্যাব। গ্রেফতারে কয়েকদিন ধরে অভিযান চালানো হচ্ছিলো। শনিবার ভোরে রাজধানীর বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।’

এর আগে গতকাল শুক্রবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে এনামুল হককে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে বলে দাবি করে তার পরিবার। পরিবার জানায়, গত ২১ নভেম্বর রাতে আশকোনা থেকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে যাবার পথে এনামুল নিখোঁজ হন। 

ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে শুক্রবার দক্ষিণখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষে এনামুল পিএচইডি করতে কোরিয়া যান। কিছু দিন আগে তিনি দেশে বেড়াতে আসেন। 

বুধবার পাবনা থেকে স্ত্রীকে নিয়ে জামালপুর শ্বশুরবাড়ি যান। ওই দিনই ঢাকায় এসে আশকোনা এলাকায় বন্ধুর ছোট ভাইয়ের বাসায় ওঠেন। রাত দশটার দিকে সেখান থেকে বেরিয়ে যান বিমানবন্দরের উদ্দেশে। বুধবার রাত ১টায় ক্যাথে প্যাসেফিক এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে কোরিয়া যাবার কথা ছিল।

বুধবার রাতে থেকে নিখোঁজ দাবি করেছে তার পরিবার। তাহলে কি আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে জানতে চাইলে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এনামুল বুঝতে পেরেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে খুঁজছে। এরপর সে আত্মগোপনে থেকে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছিল। আর তাই নিখোঁজের গল্প সাজিয়েছিল।’

এনামুলের স্ত্রী দাবি করেছিল অপহরণকারীরা তাদের কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা মুক্তিপণ নিয়েছে। এই বিষয়ে কিছু জানা গেছে কিনা জানতে চাইলে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘হয়ত এটাও এনামুলেরই ফন্দি ছিল।’