banglanewspaper

দাম্পত্য জীবন ও তার দুই সন্তানের জন্ম নিয়ে অনেক অজানা তথ্য প্রকাশ করলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা। আগামী মঙ্গলবার প্রকাশ পেতে চলেছে তার স্মৃতিকথা ‘বিকমিং’।

 

তার আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসির গুড মর্নিং আমেরিকা অনুষ্ঠানে বিবাহিত জীবনের টানাপোড়েনের কয়েকটি অধ্যায় তুলে ধরেছেন মিশেল।

 

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে তার গর্ভপাত হয়ে যায়। তারপর আইভিএফের মাধ্যমে দুই মেয়ে মালিয়া ও সাশাকে জন্ম দেন তিনি।

 

আদ্যপান্ত নিপাট ভদ্রলোক বলেই পরিচিত সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বহুবার নিজে বৃষ্টিতে ভিজে স্ত্রী মিশেলের মাথায় ছাতা তুলে ধরেছেন তিনি। একজন দায়িত্বশীল স্বামী ও বাবা হিসেবে তার জুড়ি মেলা ভার। তাই বলে যে মিশেল-বারাকের জীবনে আর পাঁচটা দম্পতির মতো টানাপোড়েন নেই, তা কিন্তু নয়।

 

‘গুড মর্নিং আমেরিকা’-কে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে মিশেল জানান, গর্ভপাত হওয়ার ঘটনাটি ঘটে ১৯৯৭ সালে। তারপরই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। সবসময় নিজেকে নিঃসঙ্গ মনে করতেন তিনি। এই ঘটনার প্রভাব পরে বারাকের উপরও। তাদের মধ্যে মতবিরোধও দেখা দেয়। একটা সময় পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, দু’জনেই মনোবিদের সাহায্য নিতে বাধ্য হন।

সাবেক ফার্স্ট লেডি জানান, গর্ভপাত হওয়ার ফলে সন্তান ধারণে জটিলতা দেখা দেয়। ফলে তাকে আইভিএফ বা কৃত্রিমভাবে সন্তান জন্ম দিতে হয়। এভাবেই ১৯৯৮ সালে জন্ম হয় বড় মেয়ে মালিয়ার। তারপর তাদের ঘরে আসে সাশা। অবশ্য তারপর থেকেই স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসে। মতবিরোধ ভুলে ও পুরনো দিনগুলোকে পিছনে ফেলে নতুনভাবে জীবন শুরু করেন তারা।

 

কেন ভ্রুণ নষ্টের কথা তুলে ধরেছেন মিশেল? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নারীদের কাছে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভ্রুণ নষ্ট হয়ে গেলেই জীবন শেষ হয়ে যায় না। পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে শিখতে হবে।

 

আত্মজীবনীতে দাম্পত্য জীবন ছাড়াও একাধিক বিষয় তুলে ধরেন মিশেল। শিকাগো শহরে নিজের ছেলেবেলা ও বর্ণবিদ্বেষ নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষাঙ্গ ফার্স্ট লেডি হওয়ার অভিজ্ঞতা। সব মিলিয়ে, বইটি থেকে জানা যাবে মিশেল-বারাকের জীবনের অনেক অজানা তথ্য।

 

এছাড়া মিশেল তার আত্মজীবনীমূলক এই বইয়ে বর্তমান মার্কিনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

 

তিনি লিখেছেন, ওবামার মার্কিন নাগরিকত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ এবং ওবামা পরিবারের নিরাপত্তা বিপন্ন করার জন্য তিনি কখনোই ট্রাম্পকে ক্ষমা করবেন না। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন ও বিবিসি