banglanewspaper

আফগানিস্তানে একজন মার্কিন সেনার উপস্থিতি থাকলে কোনো আলোচনায় বসবে না তালেবান। শুক্রবার রাশিয়ার মস্কোয় কয়েক দেশের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় একথা জানিয়েছে তালেবান নেতারা। আলোচনার সময় তালেবান নেতা শের মোহাম্মদ আব্বাস স্ট্যানিকজাই বলেন, বহিঃআক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করাই তালেবানের প্রধান লক্ষ্য।

শুক্রবার দ্বিতীয়বারের মতো আফগানিস্তান বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে রাশিয়া। মস্কোয় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, চীন, পাকিস্তান, ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রথমবারের মতো এ ধরনের সম্মেলনে অংশ নেয় তালেবান।

গণমাধ্যমকে তালেবান প্রতিনিধি শের মোহাম্মদ আব্বাস স্ট্যানিকজাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল আফগান সরকারের সঙ্গে তারা কোনো আলোচনা করবেন না। বিদেশি সেনা প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চান বলেও জানান তিনি।

তালেবান নেতা শের মোহাম্মদ আব্বাস বলেন, ‘আফগানিস্তানে একজন মার্কিন সেনার উপস্থিতিও সহ্য করব না আমরা। মার্কিন জোটের বহিরাক্রামণের অবসান ঘটানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পেরেছে আলোচনার মাধ্যমেই আফগান সঙ্কটের সমাধান করতে হবে। তাদের সঙ্গে আলোচনা একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা তৈরির পর্যায়ে বলা হয়।'

বৈঠকে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ না থাকায় অংশ নেয়নি মার্কিন সমর্থিত আফগান সরকার। তবে সরকার সমর্থিত আফগানিস্তান শান্তি পরিষদের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। আফগান সরকারের সঙ্গে সবধরনের আলোচনা নাকচ করে দেয়ার পরও শান্তি পরিষদের প্রতিনিধি দলের প্রধান দ্বিন মোহাম্মদ তালেবানকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।

আফগানিস্তান শান্তি পরিষদের প্রতিনিধি দলের প্রধান দ্বিন মোহাম্মদ বলেন, ‘কোনো শর্ত ছাড়াই তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় আমরা প্রস্তুত। বৈঠকের সময় ও স্থান নির্ধারণের জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।'

বৈঠকের উদ্দেশ্য তুলে ধরে বিবাদমান পক্ষগুলোকে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংঘাতমুক্ত আফগানিস্তান গঠনের আহ্বান জানায় রাশিয়া। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, ‘সন্ত্রাস নির্মূলে প্রত্যেকের উচিৎ আফগানিস্তানকে সহায়তা করা। আফগানিস্তান এবং প্রতিবেশীদের ভোগান্তি বাড়াতে পারে এমন কোনো কাজ করা কারোইউচিৎ হবে না। সঙ্কট সমাধানের একমাত্র পথ হতে পারে-সবপক্ষের একতার ভিত্তিতে রাজনৈক উপায়ে এগিয়ে চলা।'

তবে আলোচনায় শান্তি আলোচনায় তালেবানের এমন মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তালেবানকে কখনোই ক্ষমতায় ফিরতে দেবে না ওয়াশিংটন।