banglanewspaper

পিরোজপুর প্রতিনিধি : পিরোজপুরের কচাঁ নদীর উপর বেকুটিয়া ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর নির্মাণ কাজ এর শুভ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার বেকুটিয়া সেতুসহ পিরোজপুর জেলার তিনটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। গণভবন থেকে সকাল ১০টায় পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক-সাঈফ মিজান স্মৃতি সভাকক্ষে এ কার্যক্রমের ভিডিও কনফারেন্সিং অনুষ্ঠিত হবে।

প্রকল্পগুলো হচ্ছে কচাঁ নদীর উপরে বেকুটিয়ায় ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর নির্মাণ কাজ, নবনির্মিত পিরোজপুর জেলা কারাগার এবং নবনির্মিত ভান্ডারিয়া উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি ও মুক্তমঞ্চ। একই সাথে প্রধানমন্ত্রী পিরোজপুর সদর উপজেলার শতভাগ বিদ্যুতায়নেরও উদ্বোধন করবেন।

পিরোজপুর জেলার পিরোজপুর সদর ও কাউখালী উপজেলার রাজাপুর-নৈকাঠী-বেকুটিয়া-পিরোজপুর সড়কের ১২তম কিলোমিটারের বেকুটিয়ায় কচাঁনদীর উপর ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর নির্মাণ প্রকল্পটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ২০১৭ সালের ১ অক্টোবর হতে ২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারী মেয়াদে বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ সরকারের ১৬৭০৪.৪৫ লাখ টাকা ও চীন সরকারের ৬৫৪৭৯.৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯৯৮ মিটার দীর্ঘ এ পিসিবক্স গার্ডার সেতু পিরোজপুর শহর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে নির্মিত হচ্ছে। এ সেতুর প্রস্থ হবে ১৩.৪০ মিটার, স্প্যান সংখ্যা ৯টি, পিলার সংখ্যা ৮টি, এ্যাবাটমেন্ট সংখ্যা ২টি, ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স ২৮.৯৮ মিটার, হরিজন্টাল ক্লিয়ারেন্স ১২২ মিটার, ভায়াডাক্ট ৪৯৫ মিটার, এপ্রোচ সড়কের দৈর্ঘ্য ১.৪৬৭ কিলোমিটার, এপ্রোচ সড়কে সেতুর সংখ্যা একটি এবং কালভার্টের সংখ্যা একটি। এছাড়া সেতুর দুুই পাশের সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য ১৪৬৭ মিটার। এর মধ্যে পিরোজপুর প্রান্তে ১০২৩ ও বরিশাল প্রান্তে ৪৪৪ মিটার। সেতুটি খুলনা-বাগেরহাট-পিরোজপুর-ঝালকাঠি-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের উপর নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি সমাপ্ত হলে খুলনা বিভাগ ও বরিশাল বিভাগের মধ্যে যাতায়াত নিরাপদ, সহজ এবং সময় সাশ্রয়ী হবে।

পিরোজপুর জেলা কারাগার প্রায় ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে ১৭৭ জন ধারণ ক্ষমতার পিরোজপুর জেলা কারাগারে দৈনিক গড়ে যে ৪০০ জন মানবেতর অবস্থায় বন্দীজীবন যাপন করেন সে ক্ষেত্রে ঘটবে আমূল পরিবর্তন। নতুন জেলা কারাগারের ধারণ ক্ষমতা হবে ৩০০ জন। জেলা কারাগারে বন্দীদের জন্য থাকবে ওয়ার্কশেড, সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি, বিচারাধীন কয়েদি ও মহিলা কয়েদিদের জন্য থাকবে আলাদা আলাদা ব্যারাক। থাকবে পুরুষ অসুস্থ বন্দীদের জন্য মেডিকেল সেন্টার, প্রিজনারস সেল, ক্যান্টিন ইত্যাদি।

২০০০ সালে জমি অধিগ্রহণ করে ২০০১ সালের ২৬ মে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম পিরোজপুর জেলা কারাগার নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে ছিলেন। ২০১১ সালে গণপূর্ত বিভাগ নতুন প্রকল্প গ্রহণ করে অতিগুরুত্বের সাথে পিরোজপুর জেলা কারাগার নির্মাণ কাজ শুরু করে। কাজের মধ্যে রয়েছে জেল অফিস কাম জেলারের বাসভবন (সাক্ষাতকার ব্লকসহ), প্রিজনার্স ওয়ার্ক শেড, সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ব্যারাক, বিচারাধীন কয়েদি ব্যারাক (পুরুষ), কিশোর কয়েদি ব্যারাক, মহিলা কায়েদি ব্যারাক (সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন), ওয়ার্ডার্স ব্যারাক, মেডিকেল সেন্টার (পুরুষ), প্রিজনার্স সেল, স্টাফ কোয়ার্টার এবং দুইটি কোয়ার্টার । এনসিলারী ওয়ার্কসের মধ্যে রয়েছে রান্না ঘর, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, স্টোর রুম, লন্ড্রি, ফুয়েল স্টোর, ওপেন বাথ, লেট্রিন, গার্ড রুম, হেয়ারকাটিং ও সেলুটিং ডায়াস।

এছাড়া বহিঃ পানি সরবরাহ এবং ওয়েস্ট ওয়াটার ডিসপোজাল কাজের ক্ষেত্রে রয়েছে ভূ-গর্ভস্থ জলাধার, পাম্প হাউজ, আরসিসি ড্রেন, পরীক্ষামূলক গভীর নলকূপ ও পৌর পানির লাইন, চার ইঞ্চি গভীর নলকূপ ও অভ্যন্তরীণ পানির লাইন ইত্যাদি রয়েছে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এক কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ভান্ডারিয়া উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি ও মুক্তমঞ্চ নির্মিত হয়েছে। ৬০০ দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একটি গ্যালারীসহ ৫০ শতাংশ জমির উপর নির্মিত এ স্থাপনায় একাডেমি অংশে ট্রেনিং রুম, দুইটি ড্রেসিং রুম, ভিআইপি রুম, ছয়টি টয়েলেট রয়েছে। শিল্পকলা একাডেমি মুক্তমঞ্চটি ভান্ডারিয়া পোনা নদীর পশ্চিম তীরে বন বিভাগের ইকোপার্ক ও থানা সংলগ্ন।