banglanewspaper

রক্তনালী বা হার্টে রক্ত জমাট বেঁধে গেলে তা থেকে থ্রোম্বোসিস হতে পারে। বিমান বা দূরপাল্লার যানবাহনে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, হাত- পা নাড়া চড়া না করা, জাংফুড খাওয়া, মুটিয়ে যাওয়া, কম হাঁটা, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, পাঁয়ে প্লাস্টার লাগানো, বড় অপারেশন, গর্ভবর্তী মায়ের কম নড়াচড়া করা, দীর্ঘসময় শুয়ে ও বসে থাকার কারণে রক্তনালীতে রক্ত জমাট বেঁধে থ্রোম্বোসিস রোগের জন্ম হয়। প্রথমে হাত পায়ে ব্যাথা অনুভব পরে রক্তনালীর রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে গিয়ে হাত পায়ে পঁচন ধরে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়। বিশ্বে প্রতি ৪ জনের মধ্যে ১ জন থ্রোম্বোসিস-এর জটিলতায় মারা যাচ্ছেন। 

শনিবার (১৩ অক্টোবর) শাহবাগ ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল এ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বারডেম) মিলনায়তনে বিশ্ব থ্রোম্বোসিস দিবস  উপলক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের ব্যাবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর মাহমুদুর রহমান, একই হাসপাতালের ভাসকুলার সোসাইটির সভাপতি প্রফেসর নরেন চন্দ্র মণ্ডল, প্রফেসর বজলুল করিম ভুঁইয়া, প্রফেসর জিএম মকবুল ও এসএমজি সাকলায়েন রাসেল প্রমুখ।

বিশ্ব থ্রোম্বোসিস দিবস উপলক্ষে দেশে প্রথমবারের মতো ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের ভাসকুলার সার্জারি বিভাগ বিশ্বের ৯০টি দেশের সঙ্গে এক যোগে বিশ্ব থ্রোম্বোসিস দিবস পালন করছে।

সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা বলেন, সাধারণত হার্টবিট অনিয়মিত থাকলে, হার্টের ভাল্বে সমস্যা থাকলে, হার্টে কৃত্রিম ভাল্ব লাগানো থাকলে কিংবা ব্লকজনিত কারণে হার্টের ওয়াল দুর্বল থাকলে হার্টের মধ্যে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে; সাথে সাথে হার্টের মধ্যে রক্ত জমে গেলে নানা ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। আর তা ব্রেইনের দিকে গেলে স্ট্রোক করতে পারে। রক্তের দলা হাত বা পায়ের দিকেও যেতে পারে আর সে ক্ষেত্রে হাত বা পায়ে গেলে নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। হঠাৎ করে হাতে বা পায়ে তীব্র ব্যথা হবে। সাধারণ ব্যথানাশক ঔষধে এ ব্যথা যায় না। ধীরে ধীরে হাত বা পা ঠান্ডা হয়ে যায় এবং নীলচে কালো হয়ে যায়। এমনকি হাত বা পা অনূভূতিহীন হয়ে অকেজো হয়ে যেতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এ অবস্থাকে ‘অ্যাকিউট লিম্ব ইসকেমিয়া’ বলে।

চিকিৎসকরা বলেন, বিশ্বে প্রতি ৪ জনের মধ্যে ১ জন থ্রোম্বোসিস এর জটিলতায় মারা যান। আমাদের দেশেও কেউ না কেউ প্রতিদিনেই থোম্বোসিস জনিত রোগ বা এর জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। কিন্তু তাদের বেশির ভাগই বিষয়টি সম্পর্কে অজ্ঞ। সেকারণে এই রোগের প্রতিরোধ জরুরী। কোন কারণে শরীরের রক্তনালীতে অনেক কারণে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। একে থ্রোম্বোসিস বলে। থ্রোম্বোসিস হলে নানা জটিলতা হতে পারে।

যেসব কারণে থ্রোম্বোসিস হতে পারে জানিয়ে চিকিৎসকরা বলেন, বিমান বা দুরপাল্লার যানবাহনে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, হাত- পা নাড়া চড়া না করা, জাংফুড খাওয়া, মুটিয়ে যাওয়া, কম হাঁটা, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, পাঁয়ে প্লাস্টার লাগানো, বড় অপারেশন, গর্ভবর্তী মায়ের কম নড়াচড়া করা, দীর্ঘসময় শুয়ে ও বসে থাকার কারণে রক্তনালীতে রক্ত জমাট বেঁধে থ্রোম্বোসিস রোগের জন্ম হয়। প্রথমে হাত পায়ে ব্যাথা অনুভব পরে রক্তনালীর রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে গিয়ে হাত পায়ে পঁচন ধরে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়। 

হার্টবিট অনিয়মিত থাকলে, হার্টের ভালভে সমস্যা থাকলে, হার্টে কৃত্রিম ভালভ লাগানো থাকলে, ব্লক জনিত কারণে হার্টের ওয়াল দুর্বল থাকলে হার্টের মধ্যে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। সে রক্ত ঝুঁকি তৈরি করে ব্রেইনে অগ্রসর হলে স্ট্রোক করতে পারে। পরে সে রক্ত বাঁধা দলা হাত পায়ে অগ্রসর হলে পায়ে তীব্র ব্যাথা হয়। যা ওষুধ খেলেও যায় না। আস্তে আস্তে হাত বা পা ঠান্ডা হয়ে যায়। এক সময় লালচে কালো হয়ে পা অনুভূতিহীন হয়ে পড়ে এবং চলার অকোজো হয়ে যায়। এ রোগের উপসর্গ দেখা দিলে মাত্র ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় হাতে থাকে, এ সময়ের মধ্যে অস্ত্রোপচার করে রক্তের দলা না সরালে অকালে হাত বা পা হারাতে হতে পারে।

চিকিৎসকরা আরো জানান, এ রোগের চিকিৎসক মাত্র হাতে গোনা। আর রোগীর সংখ্যা প্রায় দুই কোটি। রাজধানীর বারডেম, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল, ইবনে সিনা, হৃদরোগ ইন্সটিটিউট, ল্যাবএইড ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করা হয়। তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সকল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গুলোতে বিভাগ খুলে রোগীদের সেবা দিতে সরকারের প্রতি তারা জোরালো দাবি জানান। প্রতিরোধের প্রথম শর্ত সচেতনতা। মানুষকে সচেতন করার ক্ষেত্রে সব চেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে সংবাদ মাধ্যম বলে মনে করেন তারা।