banglanewspaper

দেশে প্রতি বছর প্রায় ২২ হাজার নারী নতুন করে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় সাত হাজারের মতো। স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত ৭০ শতাংশ নারী কোনো চিকিৎসা ছাড়াই মারা যায়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্যাবু অর্থাৎ চক্ষুলজ্জা আর কুসংস্কারের কারণে নারীরা এই রোগ নিয়ে সচেতন নয়। সচেতন হলেও চিকিৎসা নেয় না। সংকোচে ভোগে। অথচ শুরুতেই চিকিৎসা করা গেলে স্তন ক্যানসার নিরাময় সম্ভব।

কেবল সচেতনতার অভাবে এবং ট্যাবুর কারণে দেশে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত নারীর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। তাদের চিকিৎসায় বিলম্ব হচ্ছে। চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার যখন আর কোনো সম্ভাবনা থাকে না, তখন তারা চিকিৎসকের কাছে আসে। অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগটি নির্ণয় করতে পারলে ৯০ শতাংশ রোগীকে ভালো করা সম্ভব।

ক্যানসার হাসপাতালের সর্বশেষ ২০১৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বছর ক্যানসার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে দেড় হাজারের মতো নারী। এই হাসপাতালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্তন ক্যানসারে আক্রান্তদের ৮৯ শতাংশই বিবাহিত। তাদের গড় বয়স ৪১ বছর। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, স্তন ক্যানসারের বিভিন্ন ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হলে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, বিশেষত ক্যানসার হাসপাতাল এবং অন্য হাসপাতালগুলোতে সব মিলিয়ে বছরে চার হাজারের মতো নারী স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা নেয়। রোগীদের বড় অংশই চিকিৎসার বাইরে থেকে যায়।

স্তন ক্যানসারের রিস্ক ফ্যাক্টরগুলো দুই ভাগে ভাগ করা হয় জানিয়ে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, ‘কিছু রিস্ক ফ্যাক্টর রয়েছে, যেগুলো আমরা পরিবর্তন করতে পারি। কিছু ফ্যাক্টর পরিবর্তন করা যায় না।’

‘ব্রেস্ট ফিডিং না করালে যেমন ব্রেস্ট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে, তেমনি সন্তানের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। ওজনের কারণেও ব্রেস্ট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। আবার খাদ্যাভ্যাস ও কায়িক পরিশ্রম না করলে যেমন ওজনের ঝুঁকি বাড়ে এবং সেই সঙ্গে বেড়ে যায় স্তন ক্যানসারের ঝুঁকিও।’

স্তন ক্যানসারের শুরুতেই তা চিহ্নিত করতে হবে জানিয়ে ডা. হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘লক্ষণ দেখামাত্র ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। আমাদের দেশের নারীদের মধ্যে এই প্রবণতা একেবারেই নেই বললে চলে। আমাদের দেশের নারীরা পরিবারের অন্যদের স্বাস্থ্য নিয়ে যতটা সচেতন, নিজের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে ততটাই অসচেতন। এ কারণে বেশির ভাগ নারী চিকিৎসার বাইরে থেকে যায়। এ বিষয়ে সরকারকে কাজ করতে হবে।’

এ বিষয়ে আল রাজী হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ সারাহ জামান বলেন, ‘যেসব রোগী আমরা পাই, তাদের বেশির ভাগই লেট স্টেজে আসেন। এর প্রধান কারণ অসচেতনতা। অহেতুক লজ্জায় তারা কাউকে রোগের কথা বলতে পারেন না।’

‘স্ক্রিনিং করে যাদের আর্লি স্টেজে পাওয়ার কথা, তাদের পাচ্ছি লেট স্টেজে। ফলে তাদের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।’

সারাহ বলেন, ‘একমাত্র সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলেই স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব। আর সচেতনতা তৈরি করতে হলে হতাশা, ভয়, লজ্জা- এই তিনটি বিষয়কে দূর করতে হবে।’

স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং রোগীদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া আরও বেগবান করতে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে গণমাধ্যমেরও ভূমিকা রয়েছে বলে জানান ডা. সারাহ জামান। ঢাকাটাইমস