banglanewspaper

সমাজের মূল ভিত্তি হল পরিবার। বিবাহ হল প্রত্যেক ধর্মের পরিবার গঠনের পবিত্র বিধান।সে জন্য বিবাহ বহির্ভূত নারী-পুরুষের সম্পর্ক সকল ধর্মেই নিষিদ্ধ।বিবাহের মত পবিত্র বন্ধনের মাধ্যমে যে সম্পর্কের সূচনা হয় বর্তমানে তা অনায়াসে ভেঙ্গে যাচ্ছে পরকীয়া নামক ব্যাধির কারণে।এর প্রাদুর্ভাব সমাজ কে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

সরল বাংলায় পরকীয়া বলতে বোঝায় নিজের ঘরে স্বামী/স্ত্রী রেখে অন্যের স্বামী/স্ত্রীর সাথে অথবা অবিবাহিত নারী/পুরুষের সাথে প্রেমের সম্পর্ক রাখা। এই জঘণ্য কাজটি বর্তমানে লাগামহীন পাগলা ঘোড়ার ন্যায় ছুটে চলেছে। যার প্রচন্ড খুরের আঘাতে সমাজ ক্ষত- বিক্ষত হওয়ার উপক্রম। এতে নারী না পুরুষ বেশি আসক্ত এটা কোন কথা নয়। বরং কোন শ্রেণীর মানুষ আসক্ত এটা একটি প্রশ্ন। একটা সময় ছিল যখন প্রবাসী স্বামী অথবা স্ত্রীর মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্কের খবর পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে সমাজের একদম নিম্ন স্তরের কামলা- কামলার স্ত্রী থেকে নিয়ে উচ্চ স্তরের শিক্ষক-শিক্ষকের স্ত্রী,অফিসার-অফিসারের স্ত্রী, পুলিশ-পুলিশের স্ত্রীসহ প্রায় সকল শ্রেণী পেশার মানুষের মাঝে এই ঘৃণ্য স্বভাব বিদ্যমান। ফলে স্বামী -স্ত্রীর দুই পরিবারে সম্পর্কের টানাপোড়নের সাথে সাথে তৃতীয় আরেকটি পরিবারেও অশান্তির সৃস্টি হচ্ছে। ডিভোর্সের সংখ্যা বাড়ছে, স্বামী/স্ত্রী হত্যার ঘটনা ঘটছে এবং অনেকে অশান্তি সহ্য করতে না পেরে নিজে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। ডিভোর্স, মোহারানা, সন্তানের খোরপোশ, সন্তান কার কাছে থাকবে এগুলো কে কেন্দ্র করে আইন ও আদালত পাড়ায় দিন কাটাতে হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে কোমলমতি ছোট্ট সন্তানটার হৃদয়ে অপরিণত বয়সেই বিদ্রোহের দাগ কাটছে, লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছে, দূরত্ব বাড়ছে এবং কেউ বাবা আবার কেউ মায়ের স্নেহ বঞ্চিত হচ্ছে। সমাজের পঞ্চায়েতে এগুলো নিয়ে বিচার বসলেও পাগলা ঘোড়ার লাগাম যেন টেনে ধরার কেউ নেই। 

সমাজে ব্যাপক বিস্তরনশীল এই ব্যাধির জন্য দায়ী কে?? শুধুই কি ব্যক্তি?? হ্যা ব্যক্তির নোংরা মানসিকতার দায়বদ্ধতা অবশ্যই আছে।সাথে সাথে পশ্চিমা নষ্ট সংস্কৃতির অন্ধানুসারণ,ভারতীয় বাংলা-হিন্দি সিনেমা এবং সিরিয়ালের ব্যাপক বিস্তরন,ফেইজবুক এবং ইলেক্ট্রনিক প্রিন্ট মিডিয়ার অপব্যবহারের দরুন স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সম্মানবোধ, ভালোবাসা,আত্মোবিশ্বাস উঠে গেছে। নগ্ন নারী-পুরুষ মডেলের কামুক আবেদনময়ী সৌন্দর্য যখন স্বামী অথবা স্ত্রী দেখছে তখন নিজের স্ত্রী/স্বামীর সৌন্দর্য আর তাকে তৃপ্তি দিতে পারছে না । ঠিক তখনই এরা পরকীয়ার মত বিবেক ও সমাজবিরোধী পথ বেছে নিচ্ছে।

এভাবে চলতে থাকলে একদিন পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে। আর পরিবার ধ্বংস হলে সমাজ ধ্বংস হবে এবং সমাজ ধ্বংস হলে রাষ্ট্রের অস্তিত্য থাকবে না। তাই এই সামাজিক ব্যাধি কে রুখতে হলে ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন যেমন প্রয়োজন তেমন স্ব স্ব ধর্মীয় অনুশাসন পালনের সাথে পারিবারিক অনুশাসন ও প্রতিষ্ঠা করতে হবে।অপসংস্কৃতি দমন করতে হবে। তবেই এই ব্যাধির মহামারি থেকে ব্যক্তি,পরিবার,সমাজ তথাপি রাষ্ট্র মুক্তি পাবে। সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি ফিরে আসবে। 


লেখক:
আব্দুর রউফ সালাফী,
বি এ (অনার্স), ৩য় বর্ষ,
ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ,
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
ইমেল: salafi12016@gmail.com

 

 

 

 

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)