banglanewspaper

আগামী ১লা অক্টোবর থেকে মাত্র ৫ শতাংশ সুদে গৃহঋণের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। বিভিন্ন গ্রেডের আওতায় কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীরা সর্বনিম্ন ২০ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাকে সরকারি চার বাণিজ্যিক ব্যাংক- সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি) থেকে এই ঋণ নেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতাকে ২০ বছর মেয়াদে ৫ শতাংশ সুদ বহন করতে হবে। অন্যদিকে বাকি ৫ শতাংশ সুদ বহন করবে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত ৩০ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ‘সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং-ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদান নীতিমালা-২০১৮’ প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়, চাকরি স্থায়ী হওয়ার পাঁচ বছর পর থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা এই ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন। আর আবেদনের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৫৬ বছর।

কার জন্য কেমন ঋণ:

# জাতীয় বেতন স্কেলে পঞ্চম থেকে প্রথম গ্রেডভুক্ত, অর্থাৎ উপসচিব থেকে সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরে বাড়ি নির্মাণ বা ফ্ল্যাট কেনার জন্য সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। জেলা সদরে এই অঙ্ক হবে ৬০ লাখ টাকা, অন্যান্য এলাকায় ৫০ লাখ টাকা।

# নবম থেকে ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তারা সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরে ৬৫ লাখ টাকা, জেলা সদরে ৫৫ লাখ টাকা এবং অন্যান্য এলাকার জন্য ৪৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পাবেন গৃহঋণ হিসেবে।

# দশম থেকে ত্রয়োদশ গ্রেডের কর্মকর্তারা সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরে পাবেন ৫৫ লাখ, জেলা সদরে ৪০ লাখ এবং অন্য এলাকায় ৩০ লাখ টাকা।

# চতুর্দশ থেকে সপ্তদশ গ্রেডের কর্মচারীরা সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরে ৪০ লাখ টাকা, জেলা সদরে ৩০ লাখ টাকা এবং অন্য এলাকায় ২৫ লাখ টাকা গৃহঋণ নিতে পারবেন।

# সর্বশেষ পর্যায়ে অষ্টাদশ থেকে বিংশতম গ্রেডের কর্মচারীরা সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরে ৩০ লাখ, জেলা সদরে ২৫ লাখ এবং অন্য এলাকায় ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন আবাসন নির্মাণের জন্য।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইতোমধ্যে ঋণ আবেদনের অভিন্ন ফরম তৈরি করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি সারসংক্ষেপে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অনুমোদনও দিয়েছেন।

সরকারি চাকরিতে স্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্তরাই কেবল এ ঋণের আবেদন করতে পারবেন; রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি, পৃথক বা বিশেষ আইন দ্বারা সৃষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা এ ঋণ পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন না।

ব্যক্তিগত জমির ওপর বাড়ি তৈরি করতে চাইলে ঋণের আবেদনপত্রের সঙ্গে জমির মূল মালিকানা দলিল জমা দিতে হবে। মালিকানা পরম্পরার তথ্যও দিতে হবে।

সরকারি প্লট বা সরকার থেকে ইজারা নেওয়া জমিতেও বাড়ি তৈরি করা যাবে। সেক্ষেত্রে ঋণ আবেদনের সঙ্গে প্লটের বরাদ্দপত্রের প্রমাণপত্র এবং অন্যান্য দলিল জমা দিতে হবে। ডেভেলপারকে দিয়ে বাড়ি তৈরি করালে জমির মালিক এবং ডেভেলপারের সঙ্গে নিবন্ধন করা ফ্ল্যাট বণ্টনের চুক্তিপত্র, অনুমোদিত নকশা, ফ্ল্যাট নির্মাণস্থলের মাটি পরীক্ষার প্রতিবেদন, সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ধারিত ছকে ইমারতের কাঠামো নকশা ও ভারবহন সনদ জমা দিতে হবে।