banglanewspaper

নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) যেন অপব্যবহার না হয় সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইভিএমের প্রশিক্ষণ ও এর ব্যবহার শেখাতেও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। সভা শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, ইভিএমের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, আগে প্রশিক্ষণ নেন, শিখেন, শেখান তারপরে ব্যবস্থায় যান। মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি নিয়েছি, তিনটি পর্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং অনুশাসন অনুযায়ী এই  ইভিএম প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আরবান (শহর) এলাকার মানুষজন শিক্ষিত। লিমিটেড স্পেলে প্রথম আরবান এলাকায় ব্যবহার করা, এরপর আস্তে আস্তে গ্র্যাজুয়ালি সারা বাংলাদেশে বিস্তার করবে, এটা তিনি প্রত্যাশা করেন।’ ইভিএমের কোনো অপব্যবহার যাতে না হয় সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রথম পর্যায়ে কতগুলো মেশিন কেনা হবে সেটা কোন সময়ের মধ্যে এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তিনটি বেজ করে দিয়েছে, ধরুন, তিন হাজার কোটি টাকা, তিন ভাগে ভাগ করা হবে। সেখানে বলে দেয়া হয়েছে। দুই এক বছরে কেনার কোনো ব্যবস্থা নেই। এক মাস দুই মাসেই কিনতে পারবেন না।  প্রথম বেজ, দ্বিতীয় বেজ, তৃতীয় বেজে বলা আছে- প্রথম বেজ শেষ করার পর দ্বিতীয় বেজ, দ্বিতীয় বেজ শেষ করার পর তৃতীয় বেজ। বেজ অনুযায়ী ফলাফল দেখে, আমরা দেখবো স্টোর করতে পারলাম কি না। মানে কোনো সমস্যা আছে কি না এগুলো দেখে আমরা করবো।’

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘ইভিএম প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি করেছি আমরা। আমরা আশ্বস্ত হয়ে এই প্রকল্প নিয়ে এসেছি।’

প্রকল্পটি গত মাসে পরিকল্পনা কমিশনে এসেছে। এত দ্রুত এটা পাস হয়ে যাওয়া তাড়াহুড়ো কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্প অনুমোদন দিতে কোনো তাড়াহুড়ো করা হয়নি, আমাদের কাছে কোনো প্রকল্প দুই সপ্তাহের বেশি থাকলেই সেটাকে আমরা দীর্ঘদিন বলি।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হবে কি না এ ব্যাপারে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সেটা নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার। এখনতো আমাদের  আরপিও সংশোধন করতে হবে। আরপিওতে এখন স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের নির্দেশনা আছে। যেহেতু সেখানে নির্দেশনা আছে আমি মনে করি জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের ব্যাপারে আরপিও পরিবর্তন দরকার।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কিছু ট্যাগ লাইন ছিল ঘরে ঘরে বিদুৎ, ডিজিটাল বাংলাদেশ, আরেকটা ছিল মধ্য আয়ের দেশ। এখন আমরা ডিজিটাল। এখন আমরা অনলাইনে ইনকাম ট্যাক্স জমা দিতে পারি।  অনলাইনে আমরা বাজারও করতে পারি। প্রতি গ্রামে এখন ব্যাংকিং সেবা পাওয়া যায়। আমাদের দেশে মোবাইলের ব্যবহার বেশি।

আমাদের এখানে নির্বাচন খারাপ হয় এটা আমরা বলি না, যারা ফেল করে তারা বলে। এটা আমাদের নিয়ম। আমি মনে করি সেখান থেকে বের করে নিয়ে আসতে হলে অটোমেশনের বাইরে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই। আমরা এখন আস্তে আস্তে জিনিসটা সম্পর্কে জানবো, পরে আমরা ব্যাপক আকারে বাস্তবায়ন করবো।

‘নির্বাচন ব্যবস্থায় অধিকতর স্বচ্ছতা আনতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনা, সংরক্ষণ ও ব্যবহার’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে তিন হাজার ৮২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে।’

এই প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী বিভিন্ন নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে ক্রমান্বয়ে এক লাখ ৫০ হাজার ইভিএম মেশিন কেনা, সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হবে। এছাড়া নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব জনবলের জন্য ইভিএম ব্যবহারসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ আয়োজন, ইভিএমের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।

এটি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আওতায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় বাস্তবায়ন করবে।