banglanewspaper

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি, মোঃ জাফর ইকবাল : কুলাউড়া উপজেলার ব্রাম্মনবাজারে সাতনম্বর গ্রামে যৌতকের বলি হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে শাপলা বেগম (২৫)। স্বামীর যৌতুকের দাবী মিটাতে না পেরে অমানুবিক নির্যাতনের স্বীকার হতে হয়েছে তাকে।  

গত ২৯ আগষ্ট স্বামীর কামাল মিয়ার দাবী করা নগদ ৩০ (ত্রিশ হাজার) টাকা গরিব পিতার নিকট থেকে নিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় স্বামী শুশুর সমছু মিয়া, শ্বশুরী লিলাই বেগম, দেবর জামাল মিয়া মিলে নির্মম ভাবে মারধোর করে। এতে তার ডান পায়ে ২টি হাড় ভেঙ্গে যায়। এক পর্যায়ে শাপলা বেগমকে মৃত ভেবে খাটের নিছে লুকিয়ে রেখে স্বামী পালিয়ে যায়।

শাপলা বেগমের মেয়ে সোহানা (৪) মায়ের নির্যাতন দেখে চিৎকার করতে থাকলে পার্শের বাড়ির মানুষ ঘটনাস্থলে এসে শাপলার পিতাকে ফোন দিয়ে ঘটনাটি জানায়। শাপলার পিতা শমসেদ মিয়া মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে মূমুর্ষ অবস্থায় ভর্তি করেন। ১ সেপ্টেম্বরে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে থেকে সিলেট উসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। শাপলার গরিব পিতা থাকে সিলেট নিয়ে যেতে না পেরে নিজ বাড়িতে নিয়ে রেখে দেন। ভাঙ্গা পা ও শরীরের নির্যাতনের যন্ত্রনায় বিনা চিকিৎসায় বিছানায় ছটফট করছে শাপলা বেগম। শাপলার পিতা শমসেদ মিয়া জানান ৬ বছর পূর্বে কুলাউড়া  উপজেলার সাতনম্বর গ্রামের ছমছু মিয়ার ছেলে কামাল মিয়ার সাথে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দেন তিনি । যৌতুক লোভি কামাল মিয়া প্রায় সময় মেয়েকে যৌতুকের জন্য মারধোর করত। তিনি মেয়ের নির্যাতনের কথা ভেবে প্রায় সময় তার পরিবারে নানা জিনিস পত্র কিনে দিতেন।

গত ঈদুল-আযহার পূর্বে মেয়ের স্বামীকে এক বান ডেউটিন ও ঈদের জন্য চাল,ডাল,মসলা ক্রয় করে দিয়েছেন। এরপরও  পষাণ স্বামী ও তার পরিবারের লোকেরা নগদ ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার জন্য চাপ দেয়। পিতার অবস্থা ভেবে মেয়ে রাজি না হওয়ায় কামাল মিয়ার পরিবারের সকলে মিলে অমানবিক নির্যাতন করে। খবর পেয়ে গিয়ে শাপলাকে অজ্ঞান অবস্থায় খাটের নীচে লোকানো অবস্থায় দেখতে পান। মেয়েকে মূমুর্ষ অবস্থায় মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে আসার পর ডাক্তারা পরীক্ষা করে জানান তার ডান পায়ের নিচে ২টি হাড় সম্পন্ন রূপে ভেঙ্গে গিয়েছে। পেট ফুলে গেছে প্র¯্রব, পায়খানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ৫দিন চিকিৎসার পর ডাক্তাররা সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সিলেট ওসমানী মেডিকেলে নিয়ে চিকিৎসা করানোর মত স্বামর্থ তার নেই। তাই বাড়িতে নিয়ে রেখে দিয়েছেন। নির্যাতনের স্বীকার শাপলা বেগম শারীরিক ও মানসিক ভাবে খুবই বিপর্যস্ত। ঠিকমত কথাও বলতে পাারছে না। আর যন্ত্রনায় দুচোখ দিয়ে পানি ঝরছে। শাপলার মা শিবলী বেগম এসব পাষানদের বিচার চান।