banglanewspaper

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মোঃ জাফর ইকবালঃ শ্রীমঙ্গল থানার সাইটুলা বস্তিতে নিহত স্বপ্না বেগমের খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ। গত ৭ সেপ্টেম্বর খুনি পরকীয়া প্রেমিক আজাদ মিয়াকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর অপারেশন মোঃ সোহেল রানা অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেন।

উল্লেখ্য গত ১ আগষ্ট ২০১৭ ইং শ্রীমঙ্গল উপজেলা সাইটুলা বস্তি থেকে গলাটিপে হত্যা করা স্বপ্না বেগম নামে এক মহিলার মৃত্যু দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্বাপ্না বেগমের বোন মিলন বেগম বাদী হয়ে স্বপ্নার স্বামী গফুর মিয়াসহ অজ্ঞাত ৩-৪ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ হত্যার অভিযোগের প্রক্ষিতে গফুর মিয়াকে গ্রেফতার করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ সোহেল রানা ইন্সপেক্টর (অপারেশন) দীর্ঘ তদন্তের পর মামলার প্রকৃত খুনি পরকীয়া প্রেমিক সাইটুলা গ্রামের মৃত হবিব মিয়ার ছেলে আজাদ মিয়া (২৮)কে ৭ সেপ্টম্বর গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারের পর আজাদ মিয়া স্বপ্না হত্যার কথা স্বীকার করে ঘটনার বিবরণ দেয়। সাইটুল গ্রামের গফুর মিয়া সম্পর্কে তার খালাতো ভাই। আজাদ মিয়া প্রায় দিনই গফুর মিয়ার বাড়িতে গিয়ে কাজেকর্মে সহযোগীতা করত। এক পর্যায়ে গফুর মিয়ার স্ত্রী স্বপ্না বেগম (৩৫) সাথে পরকীয়া প্রেম গড়ে উঠে।

প্রায় ৩ বছর পূর্বে গফুর মিয়া ও তার স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হলে স্বপ্না বেগম বাপের বাড়ি ছলে যাওয়ার জন্য সিএনজি গাড়ির ব্যবস্থা করে দেয় আজাদ। তখন থেকে গফুর মিয়া তার স্ত্রীর সাথে আজাদের সম্পর্কের বিষয়টি সন্দেহ করে। স্বপ্না ৫ মাস বাপের বাড়ি থেকে নারায়ানগঞ্জ আদমজী গার্মেন্টেস এ চাকরি নেয়। আজাদ ও সেখানে চলে যায় এবং তাকে নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মত বসবাস করে। দের বছর পর স্বপ্না ও গফুরের আত্মীয় স্বজন তাদের ঝগড়াটি মিটমাট করলে স্বপ্না স্বামীর সংসারে ফিরে আসে। আজাদ মিয়াও বাড়ি চলে এসে গোপনে গোপনে স্বপ্নার সাথে দেখা করত। গত ৩১ জুলাই ২০১৭ ইং আজাদ মিয়া স্বপ্নাকে রাতের বেলা ঘরের জানালায় সংকেত দিয়ে বাইরে বের করে। প্রথমে ঘরের দক্ষিণে কাঠাঁল গাছের নিচে বসে গল্পগুজব কারার এক পর্যায়ে স্বপ্না বেগমের নিকট তার পাওনা কিছু টাকা ফেরত চায়। স্বপ্না বেগম তার কাছে আজাদ কোনো টাকা পাবে না বলে উত্তর করলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে দুহাত দিয়ে স্বপ্নার গলা টিপে ধরে। ৫-৬ মিনিটের মধ্যে স্বপ্না নিস্তেজ হয়ে যায়।

আজাদ স্বপ্নার মৃত দেহ টেনে ঘরের ভিতরে  রেখে বাহির থেকে দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যায়। আজ ৮ সেপ্টেম্বর শনিবার শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ কে.এম নজরুল প্রেস বিফিং এর মাধ্যমে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।