banglanewspaper

কামরুল আহসান আসিফ:  

কষ্টে চলে জীবন নৌকা তবু মাঝি হাসে

অতল গভীর দুঃখে মাঝি গান গেয়ে ভাসে।

দুই চাকায় চলে আমার তিন চাকার গাড়ি

তবুও তুমি দাও আমায় গাঢ় বাঁকানো ঝাড়ি।

দিন শেষে যখন আমি ফিরি আমার বাড়ি

তৃপ্তিতে দেখি আমি  সবার মুখের হাসি

পরিবারের মানুষ গুলায় খুব ভালবাসি।

সন্তানকে আদর করার, একটু দেখার জন্য চটপটের অনুভূতি, সারাদিন কাজে ব্যস্ত থাকা মা টাই সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারে।

আর বুঝতে পারে সেই সন্তান যে  মায়ের ব্যস্ততার কারণে মায়ের মমতা থেকে বঞ্চিত হয়।

কিন্তু কখনো কি দেখেছেন???দিন শেষে মা আর সন্তানের ভালবাসার আর মমতায় বড়া সময়??যে ভালবাসায় কোন সার্থ থাকে না।মায়ের চোখে মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের  জ্বলকানি, অবুঝ সন্তানের চোখে মুখে থাকে অসাধ্যসাধন করার এক সন্তুষ্টি। দুজনের হাসি রাজ্য শাসন করা রাজার হাসির চেয়েও তৃপ্তিকর মূল্যবান।

ব্যস্তময় রাস্তার ফুট গুলি দিনের আলোয় দাঁড়িয়ে কথা বলতে জায়গা পাওয়া যায় না।আর দেখেছেন কি কখনো রাতের গভীরতায় আন্ধকার আর নিস্তব্ধতায় কিছু ঠিকানাহীন মানুষের চন্দ্রবিলাস হাসি ঠাট্টার সময় গুলি??দেখেছেন সারাদিনের ক্লান্ত যান্ত্রিক মানব গুলি গুটিসুটি করে জায়গা করে নিয়েছে।বন্ধুত্ব আর ভ্রাতৃত্ব কথা গুলি শুনেছেন??একজন আরেকজন কে খুঁচা দিয়ে বলে"আজ কিন্তু তুর জন্য জায়গা টা আমি রাখলাম"মায়া বড়া কথা অন্য জন উত্তর দেয়,"হা তুই তো জায়গা টা কিনে রাখছিস"এই ভাবে হাসি ঠাট্টায় মেতে ওঠে সময় আর নিস্তব্ধ সময় টা কম্পন দিয়ে ওঠে।ওদের মন খুলে হাসি তাদের পরিচয় দেয় ওরাই নিস্তব্ধ পরিবেশের সম্রাট।

কখনো কি দেখেছেন??মানুষ গুলি পাউরুটি আর পানি খেয়ে সস্থির ক্ষুদা মিটানোর রাজকীয় হাসি হাসতে।

আপনার আমার ধারণা ভুল মানুষ খাওয়ার জন্য বাঁচে না,ক্ষিদা মিটানোর জন্য পুলাও কুড়মা রাজকীয় বিলাতী খাবারের দরকার হয় না।চাহিদা কম থাকলে পাউরুটি টা পেটে পানি দিয়ে চেপেও ক্ষিদার যন্ত্রণা দূর করা যায়।

শরীরের ঘাম ঝরে ভিজা শরীর, শরীরের সাথে সংগ্রাম করা মানুষ টা আপনি আমাকে ছাড় দেওয়ার মন মানুষিকতা রাখে,আমাদের আগে যেতে দিয়ে বলবে মামা আপনি আগে যান,সাথে একটা মায়া বড়া চোখের ভাষা তাকে নিচু করে না।নিচু তো আমি আমাকে সে জায়গা করে দিলো।হেরে যাই মামা তোমার চোখের মায়া আর মুখের ছোট কন্ঠসর আমাদের হৃদয়ে বজ্রের আগাত হানে।কারণ আমি এসি গাড়িতে বসে ধৈর্যহারা হয়ে যাই।আমার রক্ত এসির বাতাসে ঠান্ডা থাকলেও আমাদের অহংকার আমাদের পশু করে তুলে।বিবেকের কাঠগড়ায় আমি  অপরাধী। আমাদের অপরাধী করে দিলে মামা আমার বিবেকের কাঠগড়ায়।

গায়ে খাটা মানুষ গুলিকে ছোট করে যে,সে নিম্নশ্রেণীর। তাদের পিঠে কাদে বর করে আমি আপনি ভাব, স্ট্যাটাস প্রকাশ করি।প্রদ্দার আড়ালে যে মানুষটা আপনাকে সাজিয়ে তুলে সেই বীর সে পারে,আপনার আমার কাজ গুলিকে নিজের দায়িত্ব নিয়ে করে দেয়।প্রতিদানে করলে, আমি আপনি কেনো করি না????

যতজন বড় হয়, কারো না কারো উপর বর করে কষ্ট দিয়ে হয়।দেখেন, আপনার সুখ যেন, কারো কষ্টের কারণ হয়।তারা টাকার জন্যই শুধু করে না,করে পরিবারের কিছু মানুষের হাসি ফুটাতে।আমি আপনি কাউকে কষ্ট দেই,নিজের সুখের জন্য আর সে মেনে নেয় পরিবারের অনেকের হাসি ফুটানোর জন্য।সারাদিনের কষ্টের পর পরিবারের, মা বাবা স্ত্রী সন্তানের মুখের হাসি তাকে পরের দিনের জন্য তৈরি করে।শত কষ্টের পর পরিবারের হাসি একধরনের পাওয়ার,যা আমি আপনি পেতে প্রায় ব্যর্থ হই।আমি তো দেখি খেটে খাওয়া মানুষই সফল।

কষ্ট দিয় না ভাই, যে মানুষটা পরিবারের মানুষ গুলির হাসি দেখার জন্য নিয়মিত সংগ্রাম করে যায়।কষ্ট দিয় না ভাই,যে মানুষটা পরিবারের দুমুঠো খাবারের জন্য নিজে পাচ টাকার পাউরুটি খেয়ে ক্ষিদা নিবারণ করে।কষ্ট দিয় না ভাই,যে বেড়ে ওঠে সংগ্রাম করে,যার শেষ নিঃশেষ হয় জীবনের সাথে সংগ্রাম করে।সংগ্রামী ভাইদের দমক দিয় না,যে রাস্তায় ঘামে ভিজে,অসহ্য কষ্টের শ্রমের মাঝে পরিবারের মানুষ গুলির প্রয়োজনীয়তা মিটানোর চিন্তায় অন্যমনস্ক হয়ে ভুল করে।কষ্ট দিয় না ভাই যাদের বিধাতা উদাহরণ করে পাঠিয়েছে আমাদের জন্য।

পরিবারের সবার খুশি দেখে যে নীরবে হাসে সেই তো সত্যি রাজার হাসি হাসে........

আসুন খেটে খাওয়া মানুষের কথা বলি,তাদের দুঃখগুলি শেয়ার করেনি।

লেখক: সহ-সভাপতি, কলাবাগান থানা ছাত্রলীগ, ঢাকা।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)