banglanewspaper

কামরুল আহসান আসিফ: আজ কিছু কথা না বলে আর পারছি না।অনেক কষ্ট থেকে কথা গুলি বলছি। আগেই বলতে হয়... আমি বি.বি.এ, এম.বি.এ  আগেই শেষ করেছি। ডি.এইচ.এম.এস শেষ করেছি। আমি আমার দাদার একমাত্র ছেলে সন্তানের একমাত্র ছেলে।

যে কেউ আমাদের গালি দিতে কিঞ্চিৎ চিন্তা করে না কারণ আমি আওয়ামী ছাত্রলীগ করি। যে সংগঠন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে সে সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ।আমি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। আমার পরিবার যুদ্ধের আগ থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামীলীগের বিভিন্ন সংগঠনের দায়িত্ব পালন করে আসছে।

এখন পর্যন্ত সংগঠন করে পেয়েছি দলের দায়িত্ব আর যে সন্মান পেয়েছি তা জড়িয়ে ধরেই রাজনীতির মাঠে এখনো আছি। কিন্তু ব্যক্তি জীবনে কেমন আছি কেউ কি জানতে চেয়েছেন? কিসের মায়ায় এখনো বাপ-মাকে কাঁদিয়ে,বাবা মায়ের খেয়ে পরে সংগঠনে পরে আছি? এক একটা প্রোগ্রামে আমাদের ব্যানার-ফেস্টুন করে সহযোদ্ধাদের নিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়, প্রতি দিন করে মাসের ৩০টা দিন যায় বিভিন্ন খরচে, ছাত্রলীগ করতে টাকা লাগে নাকি? তাই বলবেন। পড়া লেখা শেষ করে চাকুরী করে বাবা মাকে দেখার কথা ছিলো উল্টো এখনো তাদের চুষে খাচ্ছি।

ক্লাসের শেষ বেঞ্চের ছেলে-মেয়ে গুলোও চাকুরী করছে, কিন্তু আমাদের চাকুরী হয় না। নাকি করি না? সবাই ভাবে নেতা নেতা, ইনকামের অভাব নাই। ভাই টাকাগুলা কই থেকে আসে? কেনো দিবে আমাদের? একবারও কি ভাবেন না? দলে মূল্যায়ন হয় গুটিকয়েক জনের। আমাদের খবর নেওয়ার লোক সত্যি অনেক কম। তিন বেলা খাবার টা ঠিক রাখতে কষ্ট হয়। কিন্তু মাঠটা সুরক্ষিত রাখতে একটুও কষ্ট হয়না। এইটাই দায়িত্ব মনে হয়। কেনো? দল আমাকে খাওয়ায় পরায় না। আমরা ছাত্রলীগ নিজের খেয়ে পড়ে মাঠে থাকি।

যে ছেলেটা সব বাদ দিয়ে শুধু নিজের জন্য বাঁচে সে এক সময় বি.সি.এস ক্যাডার হয়, আর আমরা অন্যায়ের বিরোধে সংগ্রাম করতে গিয়ে হয়ে যাই ছাত্রলীগের ক্যাডার।

কেনো ভাই? দল আমাকে অনেক অনেক টাকা দেয়, চলার জন্য গাড়ি দেয়? থাকার জন্য বাড়ি দেয়? জানি বলবেন নিরাপত্তার জন্য তো নিরাপত্তা বাহিনী আছে তাহলে আমরা কেনো? আমরা কারণ, আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার! আমরা পারিনা অন্যায়কে সমর্থন করতে। আমরা ন্যায়ের প্রতি কোমল আর অন্যায়ের বিরোধে কালবৈশাখী ঝড়।

আমরা এই দেশটাকে ভালোবাসি দেশ ও দশের ভালোর জন্য আমাদের সংগ্রাম করে যেতে হয়। কারণ আমরা শুধু নিজের জন্য বাঁচি না। হাজার-কোটি মানুষের জন্য আমাদের বেঁচে থাকতে হয়।

এই কয়দিন আমাদের ছোট ভাই-বোন দের বিভিন্নভাবে মিসগাইড করা হচ্ছিলো। আমি কারো ক্ষতি করিনি। কাউকে গালি দেইনি। নিজ থেকেই অনেকেই আমার সাথে কমেন্টেস বা মেসেজে তর্কে এসেছেন। আমাকে আনফ্রেন্ড করেছেন? আমাকে গালি দিয়েছেন। কেনো ভাই? আমি ছাত্রলীগ করি তাই? নাকি আমার দেওয়া স্ট্যাটাসগুলি কী মিথ্যা ছিলো?

কোন দলের কর্মী হয়ে নয়, একজন মানুষ হয়ে ভাবুন। আমার কোন কথাটা ছিলো বানোয়াট। আমি প্রত্যেক দর্শক ছিলাম। ময়দানের মাঠে সামনে থাকাটা আমার অভ্যাস। আমি দেখলাম তারা আমাদের ব্যাগ থেকে পাথর নিয়ে অনবরত পাথর মারছে। এত বড় পাথর তারা পেল কোথায়?

ওরা আমাদের গুলি করছে আমি বিশ্বাস করতে পারিনি। বাস ভাঙার একটা ভিডিও ভাইরাল হতে দেখলাম না, ছাত্রলীগের উপরের হামলার ভিডিও ভাইরাল হতে দেখলাম না, আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসে হামলার ভিডিও ভাইরাল হতে দেখলাম না।

কাদের মাডার করা হল, রেপ করা হল তাদের ভাইরাল হতে দেখলাম না কিন্তু ভাইরাল হয়ে গেল, যারা বলছে মেরে ফেলছে, রেপ করছে তাদের ভিডিও।

ওদের মোট কতজন ছাত্র আহত হয়েছে? ২/৪ জন কিন্তু ছাত্রলীগের অনেক অনেক ছেলে আহত হয়েছে। তাদের ছবিগুলা তো ভাইরাল হল না!

আমাদের ভুল কী ছিলো? ছাত্রলীগ করা!

অনেকেই বলবেন ছাত্রলীগ কেনো ছাত্রদের যৌক্তিক আন্দোলনে সামিল হল না। পান্থপথ আমাদের এশিয়া প্যাসিফিক, ডি.আই.ইউ,এন.আই.ই.টি, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিট‘র ছাত্ররা আন্দোলন করেছে। তাদের থেকে জেনে নিবেন। আমরা তাদের কোনো ডিস্টার্ব করেছি কিনা? বরং বলেছি তাদের সুষ্ঠু  আন্দোলন করতে, রাস্তা যেন বন্ধ না করে, বহিরাগত সন্দেহ হলে আমাদের জানাতে, যেন তাদের কোন সমস্যা না হয়। আর কি করবো?

একটা বার ভাবুন ভাই, আমিও মানুষ আমারও পরিবার আছে, জীবনের মায়া আছে। বাবা মায়ের আদর ভালোবাসা কি আমি খুব ভালো ভাবে জানি। তাহলে কি ভাবে পারি অবুঝ ছাত্রদের মারতে। আমাদের সংগ্রাম তো ছাত্র রূপে জামাত, বিএনপিদের প্রতি। যারা নিজেদের কাপুরুষত্ব এর কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের ঢাল হিসাবে ব্যবহার করছে তাদের প্রতি।

আমার বাবা-মা আমাকে ভালোবাসে, আপনার বাবা-মা আপনাকে, কোনো বাবা-মা কি ইচ্ছা করে রাস্তায় এমন বিতর্কিত আন্দোলনে যেতে দিবে তার সন্তানদের? তাহলে তারা কারা?

অনেকে আছেন দেশের বাহিরে থাকে, ঢাকার বাহির থেকে গুজব যা পাচ্ছেন তাই ছড়াচ্ছেন কেনো ভাই? খুব মজা পান দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ দেখতে? নিজে মাঠে না থেকে কমেন্টস আর স্ট্যাটাসে নিজের দলের জয় দেখতে মরিয়া হয়ে যান। এত হলে নিজেরা মাঠে নামেন না কেনো? ওদের কেনো ঢাল হিসাবে ব্যবহার করছেন?

আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেখেছেন তাঁর বাবাকে এই দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিতে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একই রাতে তার পরিবার আত্নীয়দের হারিয়েছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বার মরণঘাতী হামলা থেকে বেঁচে এসেছেন। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার শরীরে জানেন কার রক্ত বয়ে চলেছে? আমাদের বাঙ্গালী জাতির মুক্তি আন্দোলনের স্বপ্নদ্রষ্টা মহান নেতা জাতির জনত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের।

তাকে যদি মনে করেন এই সব ছোট-খাটো আন্দোলন দিয়ে রুখে দেওয়া যাবে। তাহলে ভুল ভাবছেন। উনি আপনি-আমার চেয়ে দেশকে নিয়ে আরও বেশি ভাবেন। উনি সবার কথায় ভাবেন। ওনাকে বিচলিত করার ব্যর্থ চেষ্টা না করাই ভালো।

জানি না আর কতদিন ছাত্রলীগ সংগঠন টা করতে পারবো। ছেড়ে দিলে অনেকেই সুবিধাভোগী মনে করতে পারেন। ভাই নিজের এবং নিজের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার সময় হয়েছে। শূন্যে দাঁড়িয়ে মানুষ হয়ে উপরে দিকে ওঠার মিথ্যা স্বপ্ন দেখতে পারিনা। কিন্তু আদর্শ কখনো ছাড়া সম্ভব না। সংগ্রাম চলবেই। যেখানেই থাকি দেশের, দশের প্রয়োজনে সব সময় থাকবো। ইনশাল্লাহ। 

প্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ছেড়ে দেওয়া কখনই সম্ভব না। হয়তো সময়ের পরিক্রমায় জীবনের মোড় বদলাতে হবে। কিন্তু আদর্শ আর ভালোবাসায় মিশে থাকবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান।

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখক: সহ-সভাপতি, কলাবাগান থানা ছাত্রলীগ।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)