banglanewspaper

কাঠের চেয়ারের ওপর উবু হয়ে বসে টেবিলে রাখা খাতায় কোনও মতে লিখে চলেছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। পা নিচে করার উপায় নেই। তলায় মেঝেতে হাঁটুর ওপর পানি।

থানার সেন্ট্রির হালও তথৈবচ। হাঁটুর ওপর প্যান্ট গুটিয়ে বন্দুক হাতে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। এ দিকে থানার মধ্যে নদী বইছে।

সেই পানিতে সব কিছুই ভাসছে। বুধবার রাত থেকে এমনই হাল পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগর কমিশনারেটের এয়ারপোর্ট থানার। রাতে বৃষ্টির তেজ বাড়তেই পানি বাড়তে থাকে। সেই পানি রাস্তা ছাপিয়ে প্রথমে ভাসিয়ে দেয় থানার ব্যারাক। রাতেই ব্যারাকের পুলিশকর্মীদের মালপত্র কোনও মতে চেয়ার টেবিল বা বিছানায় রেখে রাতভর না ঘুমিয়েই কাটাতে হয়।

ততক্ষণে ব্যারাক ছাড়িয়ে পানি ঢুকে গিয়েছে থানার ভেতরে। ডিউটি অফিসারের ঘর ভাসিয়ে আইসি-র ঘর, তার কোয়ার্টার্স, সর্বত্রই পানি থইথই। রাতভর পুলিশকর্মীরা ব্যস্ত নথিপত্র সামলাতে, যাতে সেই মামলার ডায়েরি নষ্ট না হয়।আনন্দবাজার পত্রিকা

পানি থইথই থানার হাজতেও। সেই জমা পানিতে তো আসামিকে বসিয়ে রাখা যায় না। তাই তাদের জায়গা ডিউটি অফিসারের সামনের বেঞ্চে। ব্যারাকে পানি। তাই সকালে থানার মেসের চুলাও বন্ধ। থানার শৌচাগারও পানিতের তলায়। তাই সে দিকেও পা বাড়ানোর উপায় নেই পুলিশকর্মীদের।

কিন্তু যা-ই হোক না কেন, থানার কাজ তো বন্ধ করা যাবে না। রাস্তার পেট্রল ডিউটিও করতে হবে, সেই সঙ্গে মামলার ডায়েরি লিখে আসামিকে আদালতেও পাঠাতে হবে। তাই চেয়ারের ওপর উবু হয়ে বসেই চলছে থানার কাজ। আর ডিউটির ফাঁকে যে যার মতো আশেপাশের হোটেলে গিয়ে সেরে নিচ্ছেন খাবার।

দু’দফায় এই থানাতে পোস্টিং এক উপপরিদর্শক। তিনি বলেন, ‘আগে এই থানাতে পানি জমত না। গত বছর থেকে এই পানি জমা শুরু হয়েছে। তবে এ বছরের মতো মারাত্মক হাল কখনও হয়নি।’

সকালেই এই হাল দেখে থানার আইসি এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু জমা পানি বের করতে তারা খুব একটা উৎসাহ দেখায়নি।

এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আসলে থানার বাড়ি এবং চত্ত্বরটা এয়ারপোর্টের জায়গায়। তাই রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও তাদের।’ তাই দায়িত্ব নেই দমদম পৌরসভারও। শেষ পর্যন্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের দমকলের দ্বারস্থ হতে হয়। দমকলের একটি ইঞ্জিন থানার সামনে পানি পাম্প করে বের করার চেষ্টা করছে।

যদিও এভাবে বৃষ্টি চললে সেই পানি পাম্প করে কতটা বের করা যাবে সেই নিয়ে সংশয়ে খোদ দমকলকর্মীরাও।

তাদেরই একজন বলেন, ‘পানি পাম্প করে কোথায় বের করব? রাস্তাতেও তো পানি। নিকাশি নালাও টইটম্বুর। পানি যাবে কোথা দিয়ে?’

দমদম পৌরসভার কাউন্সিলর বরুণ নট্টের দাবি, মেট্রোর কাজের জন্য নিকাশি নালাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাই অনেক জায়গায় পানি জমেছে। শুধু বিমানবন্দর এলাকা নয়, ভিআইপি রোডে হলদিরামের কাছে হাঁটু পর্যন্ত পানি থাকায় যান চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে সকাল থেকেই।