banglanewspaper

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সঙ্কটের জন্ম দিয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ইউএসএআইডির প্রশাসক মার্ক গ্রিন।

তিনি বলেছেন, মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আপদকালীন জরুরি সহায়তা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র পূর্ব ঘোষণার অতিরিক্ত ৪৪ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে। ইউএসএআইডির মাধ্যমে অতিরিক্ত এ অর্থ দেয়া হয়।

মঙ্গলবার কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন শেষে ইউএসআইডির প্রশাসক মার্ক গ্রিন এ নতুন অর্থসহায়তার বিষয়টি জানান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন- বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্সিযা বার্নিকাটসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে সৃষ্ট এ সংকটে মিয়ানমার ও বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াল ২০৭ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে মিয়ানমার ও মিয়ানমার থেকে আগত বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জন্য মোট মানবিক সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯৯ মিলিয়ন ডলার।

ইউএসআইডির প্রশাসক মার্ক গ্রিন বলেন, বিশ্বের সর্ববৃহৎ মানবিক দাতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বার্মা-বাংলাদেশ সীমান্তের দুই পাশে জরুরি প্রয়োজন মেটাতে সক্রিয়ভাবে সাড়া দিচ্ছে। জরুরি এ তহবিল ঘোষণার ফলে গত বছরের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত এ সঙ্কটে ইউএসএআইডির মোট সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াল ১০০ মিলিয়ন ডলারে। নতুন তহবিলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কক্সবাজার ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা, আশ্রয়, স্বাস্থসেবা এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সাহায্যও দিচ্ছে।

মার্ক গ্রিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্তের সহায়তা প্রদানে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশে আগত শরণার্থীদের প্রতি দ্রুত ও উদারতার সঙ্গে সাড়া প্রদান করায় শেখ হাসিনার সরকার ও জনগণকে যুক্তরাষ্ট্র সাধুবাদ জানায়।

উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্ট থেকে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সহিংসতা থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। এর আগে থেকেই প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে রয়েছে।

মিয়ানমারে প্রায় ৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন মানুষ সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বাস করেন। শুধু রাখাইন রাজ্যে নয়, পুরো মিয়ানমারজুড়েই এদের বাস। সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সঙ্কটের জন্ম দেয়।