banglanewspaper

খুলনা প্রতিনিধি : খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একটি কেন্দ্রে জাল ভোট দিতে বাধা দেয়ার পর একজন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকরা হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভোট শেষে বাড়ি ফিরলে কী হয় এ নিয়ে শঙ্কিত ওই কর্মকর্তা।

রূপসা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫নং বুথের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা উজ্বল কুমার পাল এই হুমকি পান।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে উজ্জ্বল বলেন, ‘হঠাৎ ৫/৭ জন লোক এসে ব্যালট পেপার কেড়ে নেয়। পরে তারা নৌকায় সিল মারতে গেলে আমি তাতে বাধা দিয়েছি। এমনকি আমি সিল মারা ব্যালট পেপারগুলো বক্সে ভরতে দেইনি।’

‘তারা আমার নাম পরিচয় জেনে গেছে। ভোট শেষ হলে দেখে নেবে বলেছে। আপনাদের মিডিয়ার ভাইদের কাছে সাহায্য সহযোগিতা চাই।’

মঙ্গলবার বেলা ১১টার সময় ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের সময় নৌকার সমর্থকরা তাকে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেছেন উজ্জ্বল।

‘আমার কাছে থাকা একশ ব্যালট পেপার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। যার সিরিয়াল নং ০০৪৫৮৪০১ থেকে ০০৪৫৮৫০১ পর্যন্ত। সেগুলো সিল মেরে বাক্সে দিতে দেইনি। আমি তাদের বাধা দিলে তারা আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।’

এই ঘটনার পর এই কেন্দ্রটিতে ভোট স্থগিত হয়ে যায়। পাশেই আরও একটি কেন্দ্রে জালভোট দেয়ার প্রমাণ পাওয়ার পর সেটিতেও ভোট স্থগিত করা হয়।

খুলনায় নির্বাচনে ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে যে চার থেকে পাঁচটি কেন্দ্রে গোলযোগের খবর পাওয়া গেছে তার মধ্যে ৩০ নং ওয়ার্ডে দুটি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। এগুলো হলো রূপসা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও রূপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এর মধ্যে রূপসার দুটি কেন্দ্রে কয়েক ঘণ্টা ভোট স্থগিত থাকে জাল ভোট নিয়ে গোলযোগের পর।

এর বাইরে ২৪ নং ওয়ার্ডের সরকারি ইকবাল নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রেও ভোট বন্ধ করে দেয়া হয়।

একই কারণে নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ফাতিমা উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি বুথে ভোট স্থগিত করা হয় নৌকা মার্কায় সিল মারার অভিযোগে।

আবার ইভিএমে ভোট নেয়া শেরেবাংলা রোডের সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের অদূরে বিএনপির ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অবশ্য প্রথমে ৪০টি ও পরে ২৬টি কেন্দ্রে কারচুপির অভিযোগ এনেছেন। আর বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রথমে ২৫টি ও পরে ৩০টি ক্নেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেয়ার দাবি করেছেন।

বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বাকি কেন্দ্রে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী।