banglanewspaper

টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের অর্থায়ন, মালিকানা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ‘মূর্খের মতো’ কথা বলছেন। ‘বঙ্গবন্ধু-১’ স্যাটেলাইটের মালিকানার সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক নেই। আর এ বাণিজ্যিক পরিচালনার সব কাজও উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে হবে।

সোমবার (১৫ মে) ঢাকার ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে এই মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন,  দুটি প্রতিষ্ঠানকে স্যাটেলাইটের লাইসেন্স দিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে যে কথা ছড়িয়েছে তা আসলে গুজব। স্যাটেলাইটের লাইসেন্স কোনো প্রতিষ্ঠানকেই দেওয়া হয়নি। এটা সরাসরি সরকারই নিয়ন্ত্রণ করছে।

দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণ উপলক্ষে  সোমবার  রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে মন্ত্রী  এ কথা জানান ।

মন্ত্রী বলেন, এই স্যাটেলাইটের মালিক বাংলাদেশের জনগণ। এই স্যাটেলাইট জনগণের পক্ষে রাষ্ট্রই পরিচালনা করবে। এইখানে রাষ্ট্র ব্যতিত অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের এর সঙ্গে কোন সম্পর্ক থাকার কারণ নেই।

কোনো প্রতিষ্ঠান যদি কোনো সেবা দেবার বা কাজ পরিচালনার লাইসেন্স পেয়ে যায় এবং সেটি পরিচালনা করে তার সঙ্গে স্যাটেলাইটের পরিচালনার কোনো সম্পর্ক থাকার প্রশ্ন ওঠে না বলে জানান মোস্তাফা জব্বার।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, একটি স্যাটলাইট অনেক রকমের সেবা দেবে। তার জন্য বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন সেবার লাইসেন্স নেবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অনেকেই না বুঝে মুর্খের মতো কথা বলছেন, তাদের আরো জ্ঞানার্জন করা দরকার।

আগামী তিন মাসের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বাণিজ্যিক কাজ শুরুর আশা প্রকাশ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, “আমাদের কক্ষপথে তার অবস্থান নিশ্চিত করার পর বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত হবে। কক্ষপথে স্থাপন করার জন্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কাজ করছে।

“উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বাজারজাত করার দায়িত্ব দেওয়া হবে। সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, লাইসেন্স দেওয়ার জন্য সব কাজ বিটিআরসি এবং মন্ত্রণালয় করবে, কোনো গোপনীয়তা থাকবে না।”

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, “এই স্যাটেলাইটের লাইসেন্স দেবে বিটিআরসি, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে। স্যাটেলাইট বিভিন্ন ধরনের সেবা দেবে, সব চেয়ে বড় সেবা হচ্ছে টিভি স্টেশনগুলো বিদেশি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে যে ব্যান্ডউইডথ নেয়, সেই ব্যান্ডউইডটা এখন এখান থেকে নেবে।”