banglanewspaper

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল আটটায় এই ভোট শুরু হয়। একটানা বিকেল চারটা পর্যন্ত এই ভোটগ্রহণ চলবে। ভোট উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটাররা এসে জড়ো হন। ঠিক আটটার পরপরই লাইনে দাঁড়িয়ে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।

 সকাল ৮টা ৫ মিনিটে নগরীর সাউথ সেন্ট্রাল রোডের পাইওনিয়ার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক ভোট দেন। 

নির্বাচনে মেয়র এবং কাউন্সিলর, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিলিয়ে মোট ১৯১ জন প্রার্থী নির্বাচনের চূড়ান্ত লড়াইয়ে মাঠে রয়েছেন। মেয়র প্রার্থী ৫ জন, ১৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৪৮ জন কাউন্সিলর এবং চারটি সংরক্ষিত আসনে ৩৮ জন প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।

রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা সিটি কর্পোরেশনে প্রথমবারের মতো মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেয়র পদে যে পাঁচজন প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন তারা হলেন- আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক (নৌকা), বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির এসএম শফিকুর রহমান (লাঙল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অধ্যক্ষ মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক (হাত পাখা) এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে)।

খুলনা সিটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ ও নারী ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন। ভোটকেন্দ্র ১ হাজার ১৭৮টি। প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার রয়েছে ৪ হাজার ৯৭২ জন।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (চলতি দায়িত্ব) ফরহাদ হোসেন জানান, খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দুটি ভোটকেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার হচ্ছে। নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ২০৬ নম্বর কেন্দ্র ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২৩৯ নম্বর কেন্দ্রে মোট ১০টি ইভিএম থাকবে।

নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় শাখার এ কর্মকর্তা বলেন, ১০টি ভোটকক্ষের প্রতিটিতে একটি করে ইভিএম থাকবে।

কেসিসি নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ১০ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

সর্বশেষ ২০১৩ সালে খুলনা সিটি নির্বাচন হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির কাছে ৬০ হাজার ভোটে হেরে গিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক। যদিও ওই নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হয়নি। এবার তালুকদার আবদুল খালেকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু।