banglanewspaper

ঢাবি প্রতিনিধি: প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে আবাও রাজধানীর শাহবাগ মোড় প্রায় সাত ঘন্টা অবরোধ করার পর তা প্রত্যাহার করে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী কেন্দ্রীয় কমিটি। তবে প্রধানমন্ত্রীর কোটা বাতিলের ঘোষণা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

রোববার বিকেল ৫টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার সময় বেঁধে দিলেও সরকার তা না মানায় সোমবার সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ছাত্র ধর্মঘট পালন করে। দুপুর ১টার দিকে আন্দোলনকারীরা রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিলে চারদিক থেকেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ওই এলাকায় দেখা দেয় যানজট।

এর প্রভাব পড়েছে গোটা ঢাকা শহরেই। তবে অব‌রো‌ধের বাইরে রাখা হয় রোগী ও অসুস্থদের‌। অসুস্থ বা রোগীবাহী অ্যাম্বু‌লেন্স, রিক্সা ও অন্যান্য যান চলাচ‌লে কোন ধরণের বাঁধা দেইনি আন্দোলনকারীরা। দীর্ঘ সাড়ে ছয় ঘণ্টা পার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে।

এর আগে সকালে একই দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ-মিছিল ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের মধ্য দিয়ে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি শুরু করে শিক্ষার্থীরা। তারা সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন, মুক্তি ও গণতন্ত্র তরণ হয়ে টিএসসি, জাতীয় শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট মোড় হয়ে শাহবাগে গিয়ে অবস্থান নেয়। মিছিলে শিক্ষার্থীরা, ‘আর নয় কালক্ষেপণ, দিতে হবে প্রজ্ঞাপন’, শেখ হাসিনার ঘোষণা, বাস্তবায়ন করতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেয়।

কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনের দাবিতে চলমান আন্দোলনের বিষয়ে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর বলেন, যতক্ষণ কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি হবে না ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন চলবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার এক মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। তাই আমরা বাধ্য হয়ে আবারও অন্দোলনে নেমেছি।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী কোটা বাতিল করা হোক। আর সরকার যদি কোটা রাখতে চায় তাহলে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত রাখতে পারে, তার বেশি নয়।

নুরুল হক আরো বলেন, আন্দোলন সাময়িক স্থগিত থাকবে, তবে প্রত্যাহার নয়। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত থাকবে। রাজপথে কোনো কর্মসূচি থাকবে না। সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, মঙ্গলবার থেকে যথাসময়ে আমাদের কর্মসূচী পালন হবে। তাদের এই কর্মসূচীতে সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে পালন করার আহবান জানান তিনি।