banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিনেদক : মাদক ব্যবসায়ী, মানকসেবীদের বিরুদ্ধ কঠিনতর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, মাদক প্রতিরোধে আইনি ব্যবস্থায় যত কাঠামো আছে তার সর্বোচ্চ প্রয়োগ করবে র‌্যাব।

সোমবার (১৪ মে) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি কারও কাছে মাদক থাকলে তা র‍্যাবের ক্যাম্পের পাশে ফেলে যাওয়ার অনুরোধ করেন।

বেনজীর আহমেদ বলেন, গত ৩ মে প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে র‍্যাবকে সোচ্চার হওয়ার কথা বলার পর থেকে গত ৪ মে থেকে ১৩ মে বিশেষ অভিযান শুরু করে র‍্যাব। গত ৯ দিনে র‍্যাব ১ হাজার ৪১৫ জন মাদকসেবীদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে। ২০ লাখের বেশি জরিমানা করেছে। প্রায় ১৫কোটি টাকা মূল্যের মাদক আটক করেছে। ৩৮১ জনের বিরুদ্ধ মামলা করা হয়েছে।

র‌্যাব ডিজি বলেন, ‘সারাদেশে মাদকবিরোধী অভিযানে জেলা প্রশাসকদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করছি। যে সমস্ত দেশপ্রেমিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আছেন, আমরা চাইবো এই মাদকের আগ্রাসন থেকে নিস্তার পেতে সবাই মিলে কাজ করে যাব।’

বিচারিক কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে র‌্যাব ডিজি বলেন, ‘আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, জঙ্গি ও মাদক আর ১০টা অপরাধের মতো স্বাভাবিক অপরাধ নয়। আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আইনজীবী, প্রসিকিউটর, যারা মাদকের ব্যবসা করে ডিলার স্মাগলার তারা যেন আইনের ফাঁক-ফোকরের অপব্যবহারের সুযোগ না পায়।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সুরক্ষা বিভাগ পুরাতন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনকে হালনাগাদ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যতো দ্রুত সম্ভব আরও কঠোরভাবে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনের ব্যবস্থা করা যাতে আমরা দ্রুত তা প্রয়োগ করতে পারি।

মাদকদ্রব্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ট্রান্সপোর্টের পাশাপাশি, সরকারি বেসরকারি যানবাহনও ব্যবহার হচ্ছে। এর চালকরা কখন কোথায় সরকারি-বেসরকারি যানবাহনগুলো ব্যবহার করছেন তা গাড়ির মালিক ও ব্যবহারকারীদের খেয়াল রাখতে অনুরোধ করছি।’

 

মাদককে জাতীয় সমস্যা উল্লেখ করে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আমরা শিক্ষক, ছাত্র, রাজনীতিবীদ, ধর্মীয় নেতা, অভিভাবক, কমিউনিটি নেতা, জনপ্রতিনিধিসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষের আমরা সহযোগিতা চাই। যাতে করে আমরা মাদকের শিকড় সমূলে মূলোৎপাটন করতে পারি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সর্বশেষ ইলেক্ট্রনিক্স, অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ার সহযোগিতা চাই। আপনারা লেখেন, দেখান, আমরা সেখানেই যাবো, অভিযান চালাবো। র‌্যাব সদরের ফেইসবুক, রিপোর্ট টু র‌্যাব, ১৪টি ব্যাটালিয়নের ফেইসবুক পেইজে যে কেউ মাদক সম্পর্কে তথ্য দিতে ও যোগাযোগ করতে পারবেন। পূর্বে বড় বড় কাজের ক্ষেত্রে যে জাতীয় ঐক্য ছিল তা এক্ষেত্রে হলেও বড় কোনো বাধা হবে না। মাদক ও মাদক ব্যবসায়ীদের একটি সমন্বিত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে আমরা সেটি নিয়ে কাজ করবো।’