banglanewspaper

মোহাম্মদ রনি খাঁ, গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : মায়ের ভালোবাসায় কোনো স্বার্থ নেই, কোনো প্রাপ্তির প্রত্যাশা নেই। মা তার সন্তানকে বুকভরা ভালোবাসা, প্রাণঢালা আদর বিলিয়ে দিয়ে ধন্য হন। মা! ছোটো একটি শব্দ। কিন্তু মা শব্দটির তাৎপর্য এতই বেশি যে বিশাল পৃথিবীর আকাশকে কাগজ এবং সাগরকে কলম করে লিখলেও লিখে শেষ করা সম্ভব হবে না। মা শব্দটি শুনলেই প্রতিটি মানুষের শ্রদ্ধা, ভক্তি, ভালবাসা প্রকাশ পায়। অতি মধু মাখা শব্দ ‘মা’।

ইংরেজ কবি রবার্ট ব্রাউনিং বলেছেন, ‘মাতৃত্বেই সব মায়া-মমতা ও ভালোবাসার শুরু এবং শেষ।’ সনাতন ধর্মে মাকে স্বর্গের থেকেও বড়, মহান ও পবিত্র বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ইসলাম ধর্মের শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, ‘মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত।’

প্রতিটি সন্তানের কাছেই তাঁর মায়ের মূল্য অপরিসীম। তবে, মা দিবস প্রথম পালন করা হয় ১৯১১ সালের মে মাসের দ্বিতীয় রোববার আমেরিকাজুড়ে। সে সময় আমেরিকায় মায়েদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে ‘মাদারিং সানডে’ নামে একটি বিশেষ দিন উদযাপন করা হতো। তারপর ১৯১৪ সালে দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। মা দিবস উদযাপনের ধারণাটি প্রথম মাথায় আসে মার্কিন সমাজকর্মী জুলিয়া ওয়ার্ডের।

মা নিয়ে অনেকের অনেক ধরনের চিন্তা,পরিকল্পনা থাকে। থাকে সুখ- দুঃখের নানা অনুভূতি, যে অনুভূতি আমাদের মায়ের প্রতি ভালবাসা সৃষ্টি করে, তৈরি করে ভক্তি ও শ্রদ্ধা।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের শিক্ষার্থী রুকাইয়া খান ঐশী মা দিবস ও মা নিয়ে ব্যক্ত করে নিজের সন্তান ও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল কিছু কথা। তাঁর মতে, “ মা শব্দটি এক বিশাল অর্থ বহন করে যদিও মা শব্দটির পরিপূর্ণ অর্থ বুজে ওঠার আগেই নিজে এক সন্তানের মা হয়ে গেছি। অনেকের কাছে মা শব্দের ভিন্ন ভিন্ন অর্থ থাকতে পারে তবে আমার নিকট মা তাঁর থেকেও ভিন্ন। কারণ আমি এবং আমার মেয়ে উভয়ই শিক্ষার্থী। আমি ইউনিভার্সিটি থেকে শিখি আর আমার মেয়ে প্রতিটি মূহুর্তে আমার নিকট থেকে নতুন নতুন কিছু শিখে থাকে। যেমনটা আমার মা আমাকে ছোটোবেলায় শিখাতেন। যখন নিজের সন্তান আমার গর্ভে ছিল, তখন আমাকে প্রতিনিয়ত প্রায় ১ঘণ্টার বেশি সময় পাবলিক বাসে জার্নি করে ক্লাস করতে যেতে হত। অনেক কষ্ট হত। কিন্তু নিজের সন্তানের হাসিমুখটি দেখে সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে গিয়েছিলাম। আর নিজের মায়ের কষ্টগুলোকে বুজতে পেরেছিলাম। আমার মা বলতে আমি নাকি ছোটো বেলায় অনেকটাই আমার মেয়ের মতো দুষ্টু প্রকৃতির ছিলাম। তবে আমার মা আমাকে শিখিয়েছেন কিভাবে সন্তানের দুষ্টুমিগুলোকে হাসিমুখে বরণ করে নিতে হয়। আমি আমার চলার পথে যত সাফল্য পেয়েছি, সব কিছুই আমার মায়ের কৃতিত্ব। আমার মা আমাকে ছোটো থেকেই উৎসাহ, প্রেরণা দিয়েছেন। যে প্রেরণায় আমি একজন মা এবং শিক্ষার্থী। আমার মা আমার কাছে আদর্শ মায়ের এক অনন্য উদাহরণ।”