banglanewspaper

এম.পলাশ শরীফ,বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের শরণখোলায় এইচএসসি পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় রাকিব হোসাইন (১৭) নামের এক পরীক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। সে যেন পরীক্ষা দিতে না পারে সে জন্য তার প্রবেশপত্রও ছিড়ে টুকরো টুকরো করা হয়েছে।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম বানিয়াখালীতে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাকিবের চিৎকারে মা পারুল বেগম (৪৫), বড় ভাই সাইফুল ইসলাম (২০) ও বোন মাসুমা আক্তার (২৫) এগিয়ে এলে তাদেরকেও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এসময় মাসুমাকে টেনে হিঁছড়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দু'জনকে সকালেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতাবস্থায় পরীক্ষা শেষ করার পর দুপুরে রাকিবকেও ভর্তি করা হয় হাসপাতালে।

অভিযোগে জানা যায়, পশ্চিম বানিয়াখালী গ্রামের মো. নাছির উদ্দিন মুন্সীর ছেলে রাকিব হোসাইন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। এসময় প্রতিবেশী কামরুল ইসলাম, রাজ্জাক হাওলাদার, ইব্রাহীম হাওলাদার, বায়েজিদ হাওলাদারসহ ৭-৮ জনকে তাদের বাড়ির সামেন রাস্তার নিচে বসানো পানি নিষ্কাশনের পাইপের মুখ বন্ধ করা ও বাড়ির সীমানার বেড়া ভাঙতে দেখে রাকিব তাতে বাধা দেন।

এতে প্রতিপক্ষরা রাকিবকে গণপিটুনি শুরু করে এবং তার কাছে থাকা পরীক্ষার প্রবেশপত্রটি ছিড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলে। এ ঘটনায় রাকিবের বোন মাসুমা আক্তার বাদি হয়ে হামলার মূল হোতা আলতাফ হাওলাদারের ছেলে কামরুল ইসলামকে এক নম্বর আসামি করে ৯ জনের নামে শরণখোলা থানায় অভিযোগ করেছেন। প্রতিপক্ষের কামরুল ইসলামের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

স্থানীয় ১ নম্বর পশ্চিম বানিয়াখালী ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জসিমউদ্দিন সিদ্দিক গাজী জানান, এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে মারধর ও প্রবেশপত্র ছিড়ে ফেলাটা অমানবিক। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে বসে মীমাংসা করা হবে।

শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কবিরুল ইসলাম জানান, রাকিবকে পুলিশ পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দিয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।