banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আশরাফুল আলম খোকন বৃহস্পতিবার দুপুরে তার ফেসবুকে ‘জেগে উঠা উচিত, যাদের মধ্যে মনুষত্ব আছে’ শিরোনামে একটি স্টাটাস দিয়েছেন। আবেগঘন পোস্টে লিখেছেন, কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশাকে গলায় জুতার মালা পরানোর একটি ভিডিও দেখে তার বুক ফাটা কষ্টে অজান্তেই চোখ ভিজে গেছে।

নিচে তার পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হল-

মেয়েটিকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। এই মেয়েটিই হতে পারতো আমার বোন। ভিডিওটাও পুরোপুরি দেখার মতো শক্তি নিজের মধ্যে ছিল না। মনে হয়েছে আমার চোখের সামনে কিছু হায়েনা আমার বোনকে লাঞ্চিত করছে। ভাইয়ের অসহায়ত্ব দেখে বোনটি শুধু করুণ চোখে সব নির্যাতন সহ্য করে যাচ্ছে। এই বুক ফাটা কষ্টে অজান্তেই চোখ ভিজে গেছে। শুধু ভেবেছি, মানুষ এতো অমানুষ হয় কি করে। এরপর আবার দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাকি শিক্ষার্থী ওরা। মেয়েটির পাশের দুইজন পুরুষ শিক্ষককে দেখে মনে হয়েছে হায়েনাগুলোর সামনে যেন আত্মসমর্পণকারী নির্লিপ্ত অসহায় পিতা। হায়েনাগুলো যা করে করুক, শুধু নিজের সন্তানকে যেকোনো অবস্থায় জীবিত অবস্থায় ফেরত চাইছেন তারা।

আমি এখনো বিশ্বাস করি কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত সাধারণ ছাত্রীরা এর সঙ্গে জড়িত নয়। তাদের আন্দোলনের সঙ্গে মিশে গিয়ে সুযোগ নিয়েছে কিছু বর্বর শ্রেণির মেয়ে। যেমনটা করেছে উপাচার্যের বাসভবনে। আক্রমণকারী হায়েনা সদৃশ্য মেয়েগুলোর জন্ম পরিচয়, পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড খুঁজতে যাবো না। ওনারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে হয়তো মেধাবী কোথায়, আমি নিশ্চিত ‘মানুষ কোটা’র বিধান থাকলে তারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বারান্দা দিয়ে হাঁটার যোগ্যতা অর্জন করতে পারতো না।

কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগের সভাপতি ইফ্ফাত জাহান এশা’র বিরুদ্ধে অভিযোগ সে একজন ছাত্রীর পায়ের রগ কেটে দিয়েছে। যা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। কারণ ওই মেয়েটি নিজেই ফেসবুকে জবানবন্দিতে বলেছে, রুমের জানালায় লাথি দিয়ে সে তার পা কেটে ফেলেছে। যেই অপরাধ এশা করেনি সেই অপরাধে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মেয়েটিকে সবাই মিলে মেরেছে, গলায় জুতার মালা দিয়েছে। কত জঘন্য ওদের মানসিকতা। সমাজের নিম্নস্তরেও এই যুগে এইরকম ঘটনা দেখা যায় না। শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ছাত্রলীগকে জিম্মি করে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বহিষ্কার করানো হয়েছে।

অনেকেই লিখেছেন নারীবাদীরা এখন কোথায়, তাদের বিবেক কি মরে গেছে? আমি বলি, শুধু নারীবাদী কেন প্রত্যেকটি মানুষের জেগে উঠা উচিত, যাদের মধ্যে মনুষ্যত্ব আছে। #Stand_for_Isha

এর আগে তিনি আরেকটি স্ট্যাটাস দেন-

মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে। যারা করেছে এর দৃষ্টান্তমুলুক শাস্তি হয় উচিত। না হলে এই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এইরকম অপপ্রচার করে সহিংসতা ঘটানোর সুযোগ কুচক্রী মহল আরো নিবে।

সুফিয়া কামাল হলে একজন ছাত্রী নিজে বলেছে জানালায় লাথি দিয়ে নিজেই নিজের পা কেটেছে। এরপরও তার পায়ের রগ্ কেটে ফেলেছে হল ছাত্রলীগ সভাপতি ইশরাত জাহান ইশা, এই প্রচার করে যেভাবে ইশা’কে জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছনা করা হয়েছে তা কোনো সভ্য শিক্ষিত সমাজে ঘটতে পারে বিশ্বাস করা যায়না। এতটাই কষ্ট লেগেছে যে, জোর করে জুতার মালা পরানোর ভিডিও টা আমি পুরোটা দেখতে পারিনি। লাঞ্ছনা করেই ক্ষান্ত হয়নি জিম্মি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ছাত্রলীগকে বাধ্য করছে ইশা’কে বহিষ্কার করতে। লজ্জায় অপমানে মেয়েটা তিনবার আত্মহত্যা করতে গিয়েছে। তাদের উচিত এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা এবং আসল দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।

সর্বোপরি মাননীয় উপাচার্যের উপর এবং তার বাসভবনে যে ন্যাক্কারজনক হামলা হয়েছে এর দৃষ্টান্তমুলুক শাস্তি নিশ্চিন্ত করা।

সবগুলোরই ফুটেজসহ তথ্য প্রমান রয়েছে, খুঁজে বের করতে খুব বেশি বেগ পেতে হবেনা।