banglanewspaper

ফ্রান্স থেকে অস্ত্র কেনার জন্য প্রায় ২০০০ কোটি ডলারের আরেকটি চুক্তি সই করেছেন সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান। প্যারিসে তিন দিনের সফরের শেষ দিনে তিনি এ চুক্তি করেন। এ চুক্তির আওতায় ফ্রান্স থেকে সৌদি আরব সিজার আর্টিলারি কামান ও যুদ্ধজাহাজ কেনবেন।

আগে থেকেই ফ্রান্স হতে কেনা হচ্ছে সিজার আর্টিলারি গান, স্নাইপার রাইফেল, ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান এবং যুদ্ধজাহাজ। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অস্ত্র বিক্রেতা ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ দাবি করেন, ফ্রান্স অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে খুব সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রয়োজন, মানবাধিকারের আইন ও বেসামরিক জনগণের জীবনের ঝুঁকির বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা হয়েছে। 

আমেরিকা ও ব্রিটেনের সঙ্গে অস্ত্র কেনার জন্য বিশাল চুক্তি করেছে সৌদি আরব। এসব চুক্তির আওতায় রিয়াদ সরকার বহু যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও প্রচলিত অস্ত্র পাবে।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের সময় ১১০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র ক্রয়ের চুক্তি করেছিল সৌদি আরব। আগামী ১০ বছরে ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামাদি ক্রয়েরও চুক্তি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ২০১১ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত সামরিক অস্ত্র উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ দেশটিতে রফতানি করেছে। পাচ্ছে ১৫০টি আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার ‘ব্ল্যাক হক’, যা এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় অ্যাটাক হেলিকপ্টার বহর। রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক এবং চড়া মূল্যের লকহিড মার্টিনের এন্টি ব্যালাস্টিক মিসাইল রাডার। 

রাশিয়ার এস-৪০০ অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে একটি সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। যুক্তরাজ্যের অস্ত্র বিক্রির বড় বাজার সৌদি আরব; গত তিন বছরে কয়েক বিলিয়ন পাউন্ডের অস্ত্র বিক্রি করেছে। সৌদি আরবের কাছে যেসব দেশ অস্ত্র রফতানি করে ফ্রান্স তাদের মধ্যে অন্যতম। সম্প্রতি সামরিক অস্ত্র উৎপাদনবিষয়ক প্রদর্শনী চলাকালে বিভিন্ন দেশের সাথে রিয়াদের অস্ত্র বিক্রি সংক্রান্ত ৩৩টি চুক্তি সই হয়েছে।

সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এ সাক্ষাতে সৌদি যুবরাজকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি করে অস্ত্র কেনা ও যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের আহ্বান জানান ট্রাম্প। ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব মার্কিন অস্ত্রের ‘সবচেয়ে বড় ক্রেতা’। সৌদি অস্ত্র ক্রয়ের কারণে শত শত কোটি ডলার ঘরে ফেরাতে সমর্থ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অস্ত্র ব্যবসায় ৪০ হাজার মার্কিন নাগরিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে।