banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘মৎস কাজে নারীর মজুরি বাড়ছে, পাশাপাশি পুরুষেরও। সর্বশেষ ১৫ বছরে নারী-পুরুষের মজুরির বৈষম্য অনেক কমে গেছে। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ একদমই কম। এমনকি পুরুষের তুলনায় নারীদের মজুরি বৈষম্যও রয়েছে।’

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব প্লাইমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট স্কুল অব জিওগ্রাফি আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সাইন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সানজিদুর রহমান এ কথা বলেন।

আজ দুপুরে রাজধানীর লালমাটিয়ায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল রিসার্চ (বিআইএসআর) ট্রাস্ট “ওমেন্স গেইনফুল ইমপ্লয়মেন্ট ইন ‘ঘের’ ফার্মিং সিস্টেম (প্রন-ক্রপ-রাইস ইনটিগ্রেটেড কালচার) ইন বাংলাদেশ: ট্রেন্ডস এন্ড ডিটারমিনেন্টস” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ড. এম. খুরশিদ আলম সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মিজানুল হক কাজল, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি ডাইরেক্টর ড. ইফতেখার রবিন প্রমুখ।

ড. সানজিদুর রহমান বলেন, দক্ষতার অভাবে নারীরা কর্মক্ষেত্রে কম; নাকি মজুরি কম সেটা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশে নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ কম। থাইল্যান্ডের মত দেশে কর্মজীবী নারী অনেক থাকলেও উচ্চ পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ শূন্যের কোঠায়। একুয়াকালচার ভিত্তিক কর্মকান্ডে বর্তমানে ঘের চাষ ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও প্রসারতা লাভ করেছে। এটা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ১২,০৬০ টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, ঘের নির্ভর কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের অংশগ্রহণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। ঘের ফার্ম কর্মকান্ড শ্রম নির্ভর। এছাড়াও প্রতি হেক্টর জায়গায় ঘের ফার্মিং এর উৎপাদনশীলতা বেশী ফলে এ ক্ষেত্রে নারীদের কর্মক্ষেত্রের সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, ১৫ বছরে নারী-পুরুষের মজুরির বৈষম্য কমেছে। তবে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও পুরুষের অনুপাতে নারীর শতকরা অংশগ্রহণ উন্নত হচ্ছে না। এখানে একটা বিষয় কাজ করছে তা হলো কিছু পরিবারের নারীরা ঘের সংক্রান্ত কাজে পরিবার থেকে অংশগ্রহণ করলেও সঠিক ভাবে তারা মজুরী পান না। বাংলাদেশ এখনও কৃষি নির্ভর দেশ এবং ধীরে ধীরে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্নতা অর্জন করছে। ঘেরের কাজে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও ধান উৎপাদনমূলক কাজে নারীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়েনি।