banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর(গাজীপুর): গাজীপুরের শ্রীপুরের নগর হাওলা গ্রামের ফারুক আহাম্মদ প্রিয়ক ও তার এক মাত্র কন্যা তামারা প্রিয়সী প্রিয়ক গত ১২ মার্চ সোমবার নেপালে বিমান দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

এ সংবাদ নিশ্চিত হওয়ার পর ফারুকের বাড়িতে চলছে থেমে থেমে কান্নার রোল। বংশের শেষ প্রদীপ এক মাত্র পুত্রকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে গেছেন ফারুকের মা ফিরুজা বেগম।

ফারুকের চাচাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, ফারুক তার স্ত্রী এ্যাল মুন্নাহার এ্যানী ও শিশু কন্যা তামারা প্রিয়ক, মামাতো ভাই মেহেদী হাসান ও তার স্ত্রী কামরুন্নাহার স্বর্ণা ওই বিমানে নেপাল যেতে চেয়েছিলেন। দুর্ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছেন ফারুকের স্ত্রী এ্যাল মুন্নাহার এ্যানী এবং মেহেদী হাসান ও তার স্ত্রী কামরুন্নাহার স্বর্ণা গুরুত্বর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধিন আছেন। ফারুক আহাম্মদ প্রিয়ক ও তার কন্যা তামাররা প্রিয়সী প্রিয়ক নিহত হয়েছেন।

স্বজনদের অবস্থা স্বচক্ষে দেখতে ইউ এস বাংলার বিশেষ বিমানে মঙ্গলবার নেপাল গেছে ফারুকের চাচাতো ভাই সোহান ও মেহেদী হাসানের শাশুরী।

ফারুকের মামা মশিউর রহমান জানান, ফারুক হোসেন প্রিয়ক মৃত শরাফত আলীর এক মাত্র পুত্র। সে নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজীতে স্নাতক পাস করেছে। ব্যবসার পাশাপাশি ফারুক ছিল একজন ফটোগ্রাফার। স্ত্রী সন্তান নিয়ে নেপাল ভ্রমনে গিয়েছিল ফটোগ্রাফীর জন্য। এখন আর এ বংশে আলো জ্বালালোর মতো কোন সন্তান নেই।

অন্যদিকে মেহেদীও তার পিতার একমাত্র পুত্র। সে একটি পোশাক কারখানায় চাকুরী করতো। স্ত্রীকে নিয়ে নেপাল যেতে গিয়েছিল ভ্রমন করতে। 

এদিকে সোমরাত রাত পর্যন্ত প্রিয়কের পরিবারের কাছে প্রিয়ক ও তার কন্যা প্রিয়সী প্রিয়ক নিখোঁজ ছিল।পরে মঙ্গল বার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রিয়কের পরিবার নিশ্চিত হয় প্রিয়ক ও তার কন্য প্রিয়সী প্রিয়ক নিহত হয়েছেন।

নিহতের খবর নিশ্চিত হতেই প্রিয়কের স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পরে। ফারুকের মা ফিরুজা বেগম পুত্র ও নাতণীর শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পরেছেন। ফিরুজা বেগমের আকুতি সরকার দ্রুত সন্তানের মৃত দেহ ও জীবিতদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্তা করেন।

উল্লেখ, দুর্ঘটনাকবলিত ওই বিমানে থাকা পাঁচ সদস্য হলেন, উপজেলার নগরহাওলা গ্রামের মৃত শরাফত আলীর ছেলে ফারুক আহমেদ (৩২), তাঁর স্ত্রী আলমুন নাহার এ্যানি (২৫), তাদের এক মাত্র সন্তান প্রেয়সী (৩), নগরহাওলা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান অমিও (৩৩) ও তাঁর স্ত্রী সাঈদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা আক্তার (২৫)। তারা সবাই ভ্রমণের উদ্দেশ্যে নেপাল যাচ্ছিলেন।