banglanewspaper

মো:মোজাম্মেল ভূইয়া, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়ায় স্থলবন্দর দিয়ে গত ৯ (নয়) দিনেও মাছ রফতানী বানিজ্য শুরু হয়নি। এই মাছ রফতানী বানিজ্য জটিলতা নিরসনে আজ সোমবার সকালে আখাউড়া উপজেলা প্রশাসন রফতানী বানিজ্যে জড়িত ব্যবসায়ী, মাছের আড়তদার, সীমান্তরক্ষী বিজিবি, পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছেন।

বৈঠক শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামছুজ্জামান বলেছেন, মাছ রফতানী বানিজ্য জটিলতা নিরসনে সফল বৈঠক হয়েছে। আগামী দুইদিনের মধ্যে মাছ রফতানী বানিজ্য চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরো বলেছেন, মাছ ও মাদকদ্রব্য চোরাচালান বন্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া, কসবা, বিজয়নগর উপজেলার সমন্বয়ে যৌথ একটি টিমগঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে প্রশাসন যৌথভাবে কসবা, আখাউড়া ও বিজয়নগর সীমান্তের যে কোন জায়গায় চোরাচালান প্রতিরোধে অভিয়ান চালাতে পারবে।  তিনি মাছ ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ছোট বড় সমস্ত মাছ ব্যবসায়ীদের ব্যবসার ট্রেডলাইসেন্স থাকতে হবে, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা থেকে লাইনসেন্স গ্রহন করে মাছের ব্যবসা করার আহবান জানান অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান।

এদিকে বৈঠকে আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন তরফদার বলেছেন, কিছু মাছ ব্যবসায়ী পাচার কাজে জড়িত আছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। মাছ ব্যবসায়ীদের সাবধান করে তিনি বলেছেন, মাছ বহনকারী গাড়িতে বৈধ কাগজপত্র না পাওয়া গেলে আটক করা হবে, প্রমান পাওয়া গেলে বাজারের মাছ ব্যবাসীকেও গ্রেফতার করা হবে। তিনি আরো বলেছেন সীমান্তবর্তী এলাকার সমস্ত মাছ চাষের পুকুরের তালিকা নেয়া হবে, ওই সব পুকুরের মাছ কোথায় বিক্রি হয় তা পুলিশের নজরদারীতে থাকবে।

বিজিবির আখাউড়া কোম্পানী কমান্ডার বদর উদ্দিন সীমান্ত দিয়ে মাছ চোরাচালান বন্ধের ঘোষনা দিয়ে বলেছেন, আখাউড়াসহ বিভিন্ন সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে, অবৈধভাবে ভারতে মাছ পাচার করতে দেয়া হচ্ছে না। কেউ পাচারের চেষ্টা করলেই মাছসহ গ্রেফতার করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে বৈঠকে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া কর্ণেল বাজার, বিজয়নগর, কসবা গোসাইস্থল ও কুমিল্লার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে প্রতিদিন ভোরে ভারতের ত্রিপুরায় মাছ পাচার হয়ে যাচ্ছে আর এই মাছের বদলে ভারত থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে মাদকদ্রব্য। ব্যবসায়ীরা মাছ পাচার প্রতিরোধে প্রশাসনের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানান।

আজ সকাল ১১টায় উপজেলা সম্মেলন কক্ষে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামছুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্যামল কান্তি দাস, স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা শ্যামল কুমার বিশ্বাস, মৎস্য কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন, বিজিবির মনিয়ন্দ কোম্পানী কমান্ডার মুক্তার হোসেন, আখাউড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো: মানিক মিয়া, এবং ব্যবসায়ীদের পক্ষে ছিলেন আমদানী রফতানী বানিজ্য এ্যাসোসিয়েশন সভাপতি আব্দুল ওহাব, সাধারন সম্পাদক সফিকুল ইসলাম, সিএন্ডএফ এ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মোবারক হোসেন ভুইয়া, সাধারন সম্পাদক ফোরকান আহাম্মদ খলিফা, সিনিয়র ব্যবাসায়ী আব্বাস ভুইয়া, মনির হোসেন বাবুল, ব্যবসায়ী মো: সাইফুল ইসলাম, নাজিরুল হক, ফারুক প্রমুখ।
উল্লেখ্য বাংলাদেশ থেকে অবৈধ পথে মাছ ভারতে পাচারের অভিযোগে ভারতের ব্যবসায়ীরা গত ২৫ মার্চ থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে মাছ আমদানী বন্ধ করে দিয়েছে।

এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছে, মাছ রফতানী বন্ধ হওয়ায় প্রতিদিন কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।